ঢাকা-চট্টগ্রামে চলাচল অনুপযোগী লক্ষাধিক গাড়ি


বিশেষ সংবাদদাতা: | Published: 2017-03-09 01:40:53 BdST | Updated: 2019-08-25 21:41:39 BdST

লক্কড়-ঝক্কর গাড়ি। সংগৃহীত ছবি
ডেইলিমেইলবিডি ডট কম:
ঢাকা: ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে নিবন্ধন পাওয়া যানবাহনের মধ্যে চলাচলের অনুপযোগী প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার। নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পরও চলাচল অনুপযোগী (ফিটনেসবিহীন) এসব যানবাহন চলছেই। এসব যানবাহনের ৩৫ শতাংশই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে নেওয়া সনদের পরীক্ষায় টিকছে না। এই হিসাব বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ)।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফিটনেস সনদ না থাকার অর্থ হচ্ছে যানবাহনের ত্রুটি থাকার আশঙ্কা আছে। ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন সড়ক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

বিআরটিএর হিসাবে বর্তমানে সংস্থাটির ঢাকার তিনটি কার্যালয় ও চট্টগ্রাম থেকে নিবন্ধন নেওয়া যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ। এর প্রায় অর্ধেক মোটরসাইকেল। মোটরযান আইনে মোটরসাইকেলের জন্য ফিটনেস সনদ নেওয়ার নিয়ম নেই। বাকি সব যানের জন্য প্রতিবছর এই সনদ নিতে হয়। সারা দেশে যানবাহন রয়েছে ২৯ লাখ ৪৯ হাজার।

বিআরটিএ সূত্র জানায়, ফিটনেসবিহীন যানের বড় অংশ চলছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর এবং এর আশপাশে। আর কিছু চলছে দূরের পথে। সম্প্রতি ভ্রাম্যমাণ আদালত জোরদার করার পর ফিটনেস সনদ নিতে ভিড় পড়েছে সংস্থাটির বিভিন্ন কার্যালয়ে। সারা দেশে বিআরটিএর ৫৭টি কার্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে গত অক্টোবর থেকে মিরপুর কার্যালয়ে সীমিতভাবে যন্ত্রের সাহায্যে ফিটনেস পরীক্ষা শুরু হয়েছে। বিআরটিএর বাকি কার্যালয়গুলোতে সংস্থাটির মোটরযান পরিদর্শকেরা চোখে দেখে ফিটনেস পরীক্ষা নেন।

ছবি: সংগৃহীত

গত এক সপ্তাহে যন্ত্রের সাহায্যে ২০৭টি বাস-ট্রাকের ফিটনেস পরীক্ষা নেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৩৫টি যান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। বাকি ৭২টি অর্থাৎ ৩৫ শতাংশ ব্যর্থ হয়। মিরপুরে গত অক্টোবর থেকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ বাস-ট্রাকের যন্ত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়। প্রথম দিকে অর্ধেকই পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়। মিরপুর কার্যালয়ে প্রতিদিন অন্তত ৪০০ যানবাহন ফিটনেস নিতে আসে। কিন্তু যন্ত্র দিয়ে দিনে ৪০টির বেশি যান পরীক্ষা করা যায় না।

ভেহিকেল ইন্সপেকশন সেন্টার (ভিআইসি) নামের এই যন্ত্র ১৯৯৯ সালে প্রথম চালু করা হয়। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ পাঁচটি বিভাগীয় কার্যালয়ে এসব যন্ত্র বসানোর পরপরই বিকল হয়ে যায়। এবার দক্ষিণ কোরিয়ার অনুদানে প্রায় ২২ কোটি টাকায় মিরপুরে পুনরায় যন্ত্র বসানো হয়েছে।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলার পেছনে কতগুলো কারণ আছে। বিআরটিএর একশ্রেণির কর্মকর্তা ঘুষ নিয়ে অনেক সময় যানবাহন না দেখেই সনদ দিয়ে দেন। পুলিশ সড়কে কঠোর অবস্থান নিলে ফিটনেসবিহীন যান চলাচল কমে যাবে।

- প্রথম আলো

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।