ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে জুলাই ২০২১, ৮ই শ্রাবণ ১৪২৮


এটিএম কার্ড জালিয়াতি করে আড়াই কোটি টাকা আত্মসাৎ


প্রকাশিত:
১৬ জুন ২০২১ ১৭:৩১

আপডেট:
২৩ জুলাই ২০২১ ২২:৩৭

ছবি-সংগৃহীত

ব্যাংকের এটিএম কার্ড জালিয়াতি করে আড়াই কোটি টাকা তুলে নিয়েছে ৬ জনের একটি চক্র। এর সাথে জড়িত খোদ একজন ব্যাংক কর্মকর্তা। জালিয়াতের সাথে জড়িত ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। পোশাক কারখানার শ্রমিকের বিভিন্ন তথ্য ব্যবহার করে এটিএম কার্ডের মাধ্যমে ঢাকা তুলে নিয়েছেন চক্রটি। এরই মধ্যে দেশ ছেড়ে লাপাত্তা মূলহোতা রনি ।

পোশাক শ্রমিকদের ব্যাংক একাউন্ট তৈরির কথা বলে তথ্য সংগ্রহ তারপর সেই একাউন্ট দিয়ে এটিএম কার্ড তৈরি। কার্ড কখনোই পেতেন পোশাক শ্রমিকরা। বরং সেই কার্ড দিয়েই টাকা তুলে নিত জালিয়াত চক্র।

নারায়ণগঞ্জসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ৬ জনের এই চক্র গত কয়েক বছরে তুলে নিয়েছে আড়াই কোটি টাকা। পুলিশের দাবি চক্রের মাস্টারমাইন্ড ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার শাহাদুজ্জামান ওরফে রনি।

এটিএম বুথে কার্ড প্রবেশ করানোর পরপরই নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ডাচ বাংলা ব্যাংকের এটিএম ডিভিশনের সিনিয়র অফিসার রনির কাছে। রনির সহযোগিতায় চক্রটি তুলে নিতো নগদ টাকা। গত বছর বিষয়টি জানতে পেরে মামলা করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার মশিউর রহমান সময় সংবাদকে বলেন, ২০১৮ সাল থেকে শুরু হয়েছে এই জালিয়াতি। চক্রটি একটা কার্ড একবার দুইবারের বেশি ব্যবহার করত না। লেনদেনের সময় যখন চেক করা হয় তখন প্যাটার্ন দেখা হয়। তাই একটা কার্ড দিয়ে একবার লেনদেন করলো, এরপর দীর্ঘদিন পর হয়তো আরেকবার করলো।

মূলহোতা রনি এই অর্থ দিয়ে নামে বেনামে সম্পদও কিনেছেন। পুলিশ বলছে প্রধান আসামী কয়েকমাস আগেই দেশ ত্যাগ করেছে৷

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, যে কোনো মুহূর্তে চক্রের সদস্য আল-আমিন বাবু এটিএম বুথে এসে প্রবেশ করত। এরপর সে শাহাদুজ্জামান রনিকে জানাতো। তখন রনি একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ওই বুথের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ করে দিত। এই জালিয়াতির মূল হোতা রনি পলাতক রয়েছে। খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেছে সে দেশের বাইরে রয়েছে। সে তার জালিয়াতির টাকা দিয়ে স্ত্রীর নামে সম্পত্তি করেছে।

পুলিশ বলছে গত কয়েক বছরে ৬৩৭টি একাউন্ট ব্যবহার করে ১৩৬৩ টি লেনদেনের মধ্যমে এই টাকা তুলে নিয়েছেন চক্রটি।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top