ঢাকা বুধবার, ২৭শে জানুয়ারী ২০২১, ১৪ই মাঘ ১৪২৭


মিটার নিষ্ক্রিয়করণ, সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ, মামলা ও পুলিশের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়

বেপরোয়া বিপিডিবি’র প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম


প্রকাশিত:
২৭ নভেম্বর ২০২০ ১১:৫২

আপডেট:
২৮ নভেম্বর ২০২০ ০৯:৫২

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) চাঁদপুরের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম।

বিদ্যুতের মিটার নিষ্ক্রিয়করণ, সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ, মামলা ও পুলিশের ভয় দেখিয়ে গ্রাহক হয়রানি ও টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) চাঁদপুরের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে গত ২৫ নভেম্বর বিপিডিবি’র চেয়ারম্যান ও জেলা প্রশাসক চাঁদপুর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন চাঁদপুর কোড়ালিয়া রোডের বাসিন্দা ভুক্তভোগী মো. রহমত উল্লাহ।

অভিযোগে জানা গেছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে ২০১৭ সালের অক্টোবরে রহমত উল্লাহর বৈদ্যুতিক মিটারটি বন্ধ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট এলাকার লাইনম্যান (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) বাবরকে তিনি বিষয়টি জানান। লাইনম্যান বাবর মিটার বন্ধের বিষয়টি মিটাররিডার হোসেনকে জানাতে বলেন। মিটাররিডার হোসেন বিষয়টি অফিসকে অবহিত করলে (নতুন মিটার সংযোগ না হওয়া পর্যন্ত) প্রতিমাসে গড়ে ৩০০ ইউনিটের বিল পরিশোধ করতে হবে মর্মে অফিস থেকে রহমত উল্লাহকে জানানো হয়। অফিসের নির্দেশমতো রহমত উল্লাহ প্রতিমাসে ৩০০ ইউনিট বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করে চলেছেন। এরমাঝেই কয়েকদফা লাইনম্যান বাবরকে নতুন মিটার সংযোগের অনুরোধও জানান তিনি। তবে বিভিন্ন অযুহাতে রহমতকে আর নতুন সংযোগ দেয়া হয় নি। নিরুপায় হয়ে রহমত উল্লাহ ২০১৭’র নভেম্বর হতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত প্রতিমাসে গড়ে ৩০০ ইউনিটের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে আসছেন।

রহমত উল্লাহ জানান, “উল্লেখিত সময়ের মধ্যে অফিস কর্তৃক আমাকে নতুন মিটার সংযোগ অথবা বিল সংক্রান্ত বিষয়ে কোনোপ্রকার সতর্কীকরণ নোটিশ প্রদান করা হয়নি। চলতি বছরের ১মার্চ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, চাঁদপুরের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম হঠাৎ করেই আমার বিদ্যুৎ সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করেন। কিছুসময় পর আমাকে অফিসে ডেকে নিয়ে নতুন মিটার সংযোগের জন্য আবেদন করতে বলেন। আমি তার কথায় ওইদিনই নতুন সংযোগের জন্য আবেদন করি। এসময় নতুন মিটার সংযোগের ফি ছাড়াও সাইফুল ইসলাম অতিরিক্ত ৬,০০০/- (ছয় হাজার) টাকা নিয়ে আমাকে সংযোগটি দেন। তবে ছয় হাজার টাকার কোন রশিদ তিনি আমাকে দেন নাই। কিছুদিনের মধ্যেই আমাকে নতুন প্রিপেইড মিটার প্রদান করা হয়।”

রহমত উল্লাহ আরও বলেন, “২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মো. সাইফুল ইসলাম সঙ্গে কয়েকজনকে নিয়ে আমার পুরোনো মিটারের বিল বকেয়া আছে মর্মে দাবি করেন এবং কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার নতুন প্রিপেইড সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে আমাকে পুনরায় অফিসে যেতে বলেন। দিকবিদিক কোনো উপায় না দেখে আমি আমার শ্যালককে (সাংবাদিক) বিষয়টি জানানোর পর তিনি মোবাইল ফোনে অনুরোধ করলে কয়েক ঘন্টা পর সাইফুল ইসলাম লোক পাঠিয়ে আমার সংযোগটি পুনরায় চালু করে দেন। এর দু’দিন পর সাইফুল ইসলামের সাথে তার অফিসে দেখা করতে গেলে তিনি আমাকে পুরোনো মিটারের বকেয়া বাবদ ৫২,৫৩৭/- (বায়ান্ন হাজার পাঁচশত সাইত্রিশ) টাকা দাবি করেন এবং একটি বিল ধরিয়ে দেন। এরপর থেকেই উল্লেখিত বিল পরিশোধের জন্য তিনি আমাকে নিয়মিত চাপ প্রয়োগসহ বিভিন্ন হুমকী দিয়ে যাচ্ছেন। রহমত উল্লাহ বলেন, “আমার কোনো বিল বকেয়া নাই। প্রবাস জীবন শেষ করে পৈত্রিক ভিটায় টিনসেড বাড়ি করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করছি। আমার স্থায়ী কোনো আয় নাই। তারওপর বিদ্যুতের এ ঝামেলা আমাকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। সাইফুল ইসলামের হয়রানির বিষয়ে বিপিডিবি, চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম ইকবাল বরাবর আবেদন করতে গেলে তিনি আমাকে তুই-তাকারি ব্যবহার করে রুম থেকে বের করে দিয়েছেন।”

অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে (০১৭০৮-৫৫২৩৭৮) জানতে চাইলে মো. সাইফুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, “ অসম্ভব। আমি কাউকে হয়রানি কিংবা কারো কাছ থেকে কোনপ্রকার অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করি না। সরকার আমাকে বেতন দেন। আমি সরকারের দেয়া দায়িত্ব পালন করি মাত্র। সম্প্রতি একটি টিভি চ্যানেল আপনার অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে রিপোর্ট করেছে- এমন প্রসঙ্গ তুলতেই তিনি সংযোগটি বিচ্ছন্ন করে দেন।”

সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ প্রসঙ্গে বিপিডিবি চেয়ারম্যান এর চিফ স্টাফ অফিসার প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান এ প্রতিবেদককে জানান, “বিষয়টি তদন্ত করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, চাঁদপুরের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামের হয়রানী ও চাঁদাবাজী সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদেরকে অতিষ্ট করে তুলেছে। বিদ্যুতের মিটার নিষ্ক্রিয়করণ, সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ, মামলা ও পুলিশের ভয় দেখানোসহ বিভিন্ন অযুহাতে সাইফুল ইসলাম গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে (এসএ টিভি) সাইফুল ইসলামের ঘুষ-দুর্নীতি-অনিয়মের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। রিপোর্টে একাধিক ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম কর্তৃক নানানভাবে হয়রানীর কথা উল্লেখ করেছেন। চাঁদপুরের ফার্নিচার ও ভ্যান সার্ভিস ব্যবসায়ি খোরশেদের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। আরেক ব্যবসায়ি নুর মোহাম্মদের কাছ থেকেও ছত্রিশ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সাইফুল ইসলাম।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top