ঢাকা মঙ্গলবার, ২০শে এপ্রিল ২০২১, ৬ই বৈশাখ ১৪২৮


রাজউকে একই অপরাধে একজনের সাজা অন্যজন বহাল!


প্রকাশিত:
৯ মার্চ ২০২১ ১০:০৪

আপডেট:
৯ মার্চ ২০২১ ১৬:২৪

ফাইল ছবি

একজনের প্লট আরেকজনকে দেয়া, ফাইল আটকে ঘুষ আদায় এবং ফাইল হতে নথি গায়েবসহ একটার পর একটা অনিয়ম-দুর্নীতির খবরে সরগরম রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। পিয়ন থেকে পদস্থ কর্মকর্তা কমবেশী সবাই এই অনিয়মের সাথে জড়িত। কিছুতেই যেন দুর্নীতির লাগাম টানা যাচ্ছে না এ প্রতিষ্ঠানটির।

সম্প্রতি রাজউকের নিম্নমান সহকারী কাম-মুদ্রাক্ষরিক (ওয়ার্কচার্জড) ইমাম হাসান ও অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. মোশাররফ হোসেন (স্কাই) এর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে- তারা দু’জনেই মোটা অংকের বিনিময়ে বেআইনীভাবে ফাইলের নথি বহিরাগতের কাছে হস্তান্তর করেছেন। এর প্রেক্ষিতে উভয়ের বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয় রাজউক প্রশাসন। তবে মজার বিষয় হচ্ছে- একই অপরাধে ইমাম হাসান বরখাস্ত আর স্কাই আছেন বহাল তবিয়্যতে। বিষয়টি নিয়ে রীতিমত চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে রাজউকে।

অভিযোগে জানা গেছে, গত বছরের ১ ডিসেম্বর রাজউক পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের নিম্নমান সহকারী কাম-মুদ্রাক্ষরিক (ওয়ার্কচার্জড) ইমাম হাসান পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকার ৩০৪১ নং কোডের ১০-৩০৫-০০৯ নং প্লটের নথি রাজউকের রেকর্ড হতে গ্রহণ করেন। এরপর ১৩ ডিসেম্বর তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর (ডিজাইন) দপ্তরের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. মোশাররফ হোসেন (স্কাই) রেজিস্টারে স্বাক্ষরপূর্বক ফাইলটি ইমাম হাসানের কাছ থেকে গ্রহণ করেন। পরবর্তিতে একজন বহিরাগতের মাধ্যমে উল্লেখিত ফাইলটি রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. সাঈদ নূর আলমকে হস্তান্তর করা হয়।

ইমাম হাসানের এহেন কর্মকান্ড অফিস শৃঙ্খলার পরিপন্থী এবং অমার্জনীয় অপরাধের শামীল উল্লেখ করে গত ০৭ জানুয়ারি পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের পিডিকে (স্মারক নং-২৫.৩৯.০০০০.০০৯.২৭.২২০(৬).২০২০-৮৪) পত্র দেন রাজউকের পরিচালক (প্রশাসন) কাজী মোহাম্মদ হাসান। বিষয়টি অতীব জরুরী উল্লেখ করে এরুপ গুরুতর কর্মকান্ডের জন্য পরিচালক এস্টেট ও ভূমি-২ এর দপ্তর হতে ইমাম হাসানকে দ্রুত প্রত্যাহারসহ বরখাস্তের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গহণের জন্যও অনুরোধক্রমে নির্দেশ করা হয়।

অপরদিকে পরিচালক এস্টেট ও ভূমি-২ এর দপ্তরে কর্মরত না থেকেও পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকার ৩০৪১ নং কোডের ১০-৩০৫-০০৯ নং প্লটের নথিটি গত ১৩ ডিসেম্বর নিজে স্বাক্ষর করে গ্রহণ এবং নথিটি বহিরাগতের কাছে অসৎ উদ্দেশ্যে হস্তান্তর করার অপরাধে মো. মোশাররফ হোসেন স্কাইকে কারণ দর্শাতে নোটিশ দেয়া হয়।

কাজী মোহাম্মদ হাসান স্বাক্ষরিত নোটিশে (স্মারক নং-২৫.৩৯.০০০০.০০৯.২৭.২২০(৬).২০২০-৮৩) বলা হয়, মোশাররফ হোসেন স্কাই এর এহেন কর্মকান্ড অফিস শৃঙ্খলার পরিপন্থী এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) চাকুরী বিধিমালা, ২০১৩ এর ৩৭ (খ) অনুযায়ী অসদাচরণ ও বিধি ৩৭ (চ) অনুযায়ী চুরি ও আত্মসাতের শামিল। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) চাকুরী বিধিমালা, ২০১৩ এর ৩৭ (খ) অনুযায়ী অসদাচরণ ও বিধি ৩৭ (চ) অনুযায়ী চুরি ও আত্মসাতের অপরাধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে শাস্তি প্রদান করা হবে না, সে বিষয়ে পরবর্তি ০৭ (সাত) দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য মোশাররফ হোসেন স্কাইকে নির্দেশ প্রদান করা হয়। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

এর মাত্র ২৪ দিনের ব্যবধানে গত ৩১ জানুয়ারি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) চাকুরী বিধিমালা, ২০১৩ এর বিধি ৪৩(১) মোতাবেক এহেন কর্মকান্ড অফিস শৃঙ্খলার পরিপন্থী এবং অমার্জনীয় অপরাধ উল্লেখ করে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের পিডি ও রাজউকের প্রধান প্রকৗশলী (বাস্তবায়ন) উজ্জল মল্লিক স্বাক্ষরিত (স্মারক নং-২৫.৩৯.০০০০.১৪৬.১৪.১০৬.২০২০-৬৫) পত্রে পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) এর দপ্তর হতে ইমাম হাসানকে প্রত্যাহারসহ সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

অপরদিকে একমাস পরে গত ০৭ ফেব্রুয়ারি কাজী মোহাম্মদ হাসান স্বাক্ষরিত পত্রে (স্মারক নং-২৫.৩৯.০০০০.০০৯.২৭.২২০(৬).২০২০-৩৯৬) মোশাররফ হোসেন স্কাইকে ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল পুনরাবৃত্তি না করার শর্তে সতর্ককরতঃ তাঁর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ হতে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।

এ বিষয়ে নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্তে রাজউকের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, “বিচারের নামে পক্ষপাত ও স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে। অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেতে মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেছেন মোশাররফ হোসেন স্কাই।” ইতোপূর্বে গোল্ডেন মনিরের সহযোগি হিসেবেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে স্কাই এর নাম এসেছে। এছাড়াও শিক্ষাগত সনদ জালিয়াতিরও অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। কিন্তু অদৃশ্য ইশারায় সকল অভিযোগ থেকেই মুক্তি পেয়ে যান তিনি!



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top