43007

01/20/2026 অতীতে বাংলাদেশকে যারা স্বীকার করে নাই, তারাই সবচেয়ে বেশি দুষ্টামি করছে

অতীতে বাংলাদেশকে যারা স্বীকার করে নাই, তারাই সবচেয়ে বেশি দুষ্টামি করছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ জানুয়ারী ২০২৬ ১৩:৫১

অতীতে বাংলাদেশকে যারা স্বীকার করে নাই, তারাই এখন সবচেয়ে বেশি দুষ্টামি করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এ আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বিএনপি।

পরিকল্পিতভাবে বিএনপির বিরুদ্ধে প্রচারণা হচ্ছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি তো এখন ওদের সবচেয়ে বড়ো শত্রু। অতীতে বাংলাদেশকে যারা স্বীকার করে নাই, তারাই এখন সবচেয়ে বেশি দুষ্টামি করছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনেই নির্ধারিত হবে এই দেশ কি লিবারেল ডেমোক্রেসির হাতে থাকবে, নাকি উগ্রবাদী রাষ্ট্রবিরোধী লোকদের হাতে থাকবে।

ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ওই সময়ে যারা মানুষ মেরেছে, আমাদের মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি করেছে, পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর হাতে আমাদের মা-বোনদের তুলে দিয়েছে, সেই হিসাব আমরা ভুলি নাই। তারপরেও আমরা মনে করি যে, রাজনীতি করছ, কর। সিধা (সোজা) রাস্তায় কর। ধর্মকে ব্যবহার করে, মানুষকে বিভ্রান্ত করে, ভুল বুঝিয়ে, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি বেহেশতে যাওয়া হবে। হায় হায়। চিন্তা করেন তাহলে?’

তিনি বলেন, এরা হচ্ছে এই মোনাফেকি করে, মানুষকে ভুল বোঝায়। বিভ্রান্তি করে। আমি কথাগুলো বলতে আজকে বাধ্য হচ্ছি। কারণ তারা এই কথাগুলো আজকে বিভিন্নভাবে বিএনপিকে নিয়ে মিথ্যা প্রচার করে। বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছে, তাদের প্রতিটি মানুষ তখন তার বিরোধিতা করেছে। আজকে যখন বাংলাদেশের মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে যে, বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতি, তারেক রহমানের নতুন রাজনীতি, আধুনিক রাজনীতি যা বাংলাদেশকে পাল্টে দেবে তা গ্রহণ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে; তখন তারা আবার সেটাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে ধর্মের নাম দিয়ে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের কথা খুব পরিষ্কার। আমরা ধর্মে বিশ্বাস করি। আমাদের নেতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তিনি প্রথম সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম দিয়েছেন। তিনি প্রথম আল্লাহর উপর অবিচল আস্থা বিশ্বাসের কথা বলেছেন। তাই বলছি, ধর্মের নামে অপরাজনীতি বন্ধ করুন।

ফখরুল ইসলাম বলেন, আর মাত্র ২৩ দিন আছে নির্বাচনের। এখনও অনেকে নির্বাচন হবে কিনা? বাধা দেব, করতে দেব না, এ ধরনের কথাবার্তা বলেন। ভেতরে ভেতরে খবর নিয়ে দেখেন তাদের তিনটা ভোটও নাই।

‘ওরা আবার বড় গলায় বলে নির্বাচন হতে দেব না। হোক নির্বাচন, দেখা যাক কে কতটা ভোট পায়। আমরা তো সেজন্য, ভোটের জন্য উন্মুখ হয়ে আছি। আমরা নির্বাচন চাই। আমরা যাব জনগণের কাছে। জনগণ যদি আমাদেরকে গ্রহণ করে আমরা আছি। জনগণ যদি বাদ দিয়ে দেয় দেবো, আমরা বিরোধী দলে থাকবো তাই না? তবে আগে থেকে এত গলাবাজি কেন? আজকে আমাদের এই পরীক্ষাটা খুব কঠিন পরীক্ষা। এই নির্বাচনে নির্ধারিত হবে যে এই দেশ কি লিবারেল ডেমোক্রেসির হাতে থাকবে নাকি আপনার সব উগ্রবাদী রাষ্ট্রবিরোধী লোকদের মধ্যে থাকবে। আমাদেরকে অবশ্যই সেই উদারপন্থি রাস্তা বেছে নিতে হবে। গণতন্ত্রের রাস্তা বেছে নিতে হবে। মানুষের কল্যাণের রাস্তা বেছে নিতে হবে। সে কারণেই আমাদের ৩১ দফা আমাদের চেয়ারম্যান যে আট দফা দিয়েছেন। আবার নতুন করে ফ্যামিলি কার্ড। ফার্মারস কার্ড। এই বিষয়গুলো জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমাদেরকে নির্বাচনে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে হবে,’ বলেন বিএনপি মহাসচিব।

আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ আরো অনেকেই।

সম্পাদক: মো. জেহাদ হোসেন চৌধুরী
যোগাযোগ: রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল: [email protected], [email protected]