সৌদি প্রো লিগে আল-রিয়াদের বিপক্ষে সোমবারের ম্যাচে স্কোয়াডে নেই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আর এটিই নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, আল-নাসরে আদৌ সুখে আছেন কি না পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী।
পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম আ বোলা জানিয়েছে, ৪০ বছর বয়সী এই তারকা নাকি ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় অসন্তুষ্ট। সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ) যেভাবে ক্লাব পরিচালনা করছে, তাতে তিনি খুশি নন। এমনকি ‘খেলতেই রাজি নন’, এমন দাবিও করেছে সংবাদমাধ্যমটি। আল-নাসর ও আল-হিলাল- দুই ক্লাবই পিআইএফের নিয়ন্ত্রণে। ইংলিশ ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেডও তাদের পোর্টফোলিওতে আছে।
২০২২ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছাড়ার পর আল-নাসরে যোগ দেন রোনালদো। ইতিহাসের সর্বোচ্চ বেতনের ফুটবলার হিসেবে বছরে প্রায় ১৭৭ মিলিয়ন পাউন্ড আয় করছেন তিনি। গত বছরের জুনে নতুন দুই বছরের চুক্তিও করেন। কিন্তু এত কিছু সত্ত্বেও ট্রফির খরা যেন কাটছেই না।
গোল আছে, ট্রফি নেই
আল-নাসরে যোগ দেওয়ার পর থেকে গোল করে চলেছেন রোনালদো। মাঝমৌসুমে যোগ দিয়েও ২০২২–২৩ মৌসুমে করেন ১৪ গোল। এরপর টানা দুই মৌসুম লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা, ৩৫ ও ২৫ গোল।
শুক্রবার আল-খোলুদের বিপক্ষে মৌসুমের ১৭তম গোল করে ক্যারিয়ারের মোট গোলসংখ্যা নিয়ে গেছেন ৯৬১-এ। হাজার গোলের মাইলফলক থেকে মাত্র ৩৯ গোল দূরে।
তবুও হতাশার কারণ ট্রফি। আল-নাসর তার সময়ে লিগে দুইবার রানার্সআপ, একবার তৃতীয়। কিংস কাপের ফাইনালে হার, এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সেমিফাইনাল থেকে বিদায়। একমাত্র সাফল্য ২০২৩ সালের আরব ক্লাব চ্যাম্পিয়ন্স কাপ। এদিকে সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ করিম বেনজেমা, জাতীয় দলের সতীর্থ রুবেন নেভেসরা সৌদিতে লিগ শিরোপা জিতেছেন। সেটিও রোনালদোর হতাশা বাড়াচ্ছে।
আল-হিলালের শক্তিশালী হওয়াই কি বিরক্তির কারণ?
বিবিসির এক সূত্র বলছে, আল-হিলালের করিম বেনজেমাকে দলে টানার চেষ্টাই রোনালদোর অসন্তোষের বড় কারণ। “সে ভীষণ প্রতিযোগিতাপ্রবণ। অন্য ক্লাব শক্তিশালী হলে সেটা তার ভালো লাগে না”, বলেছেন ওই সূত্র।
বিনিয়োগে পিছিয়ে পড়ছে আল-নাসর?
পিআইএফের অধীনে থাকা ‘বিগ ফোর’- আল-হিলাল, আল-আহলি, আল-ইত্তিহাদ ও আল-নাসর। ২০২৩ সালে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে সৌদি ক্লাবগুলো বিশ্ব তারকাদের ভিড় করায়। নেইমার, মিত্রোভিচ, নেভেস, মাহরেজ, ফিরমিনো, কান্তে, ফাবিনিয়ো- তারকাদের ঢল নামে লিগে।
আল-নাসরও লাপোর্তে, সাদিও মানে, ব্রোজোভিচ, অ্যালেক্স টেলেসদের এনেছিল। পরে যোগ দেন জোয়াও ফেলিক্স ও কিংসলি কোমান। কিন্তু সাম্প্রতিক ট্রান্সফার উইন্ডোতে তুলনামূলক নীরব তারা। অন্যদিকে আল-হিলাল, আল-কাদসিয়া, এমনকি নতুন ক্লাব নিয়ম এসসিও বেশি খরচ করছে।
সৌদিতে ‘অসীম’ বিনিয়োগের যুগ কি শেষের পথে?
সৌদি প্রো লিগে শুরুতে যে বিপুল বিনিয়োগ দেখা গিয়েছিল, তা এখন কিছুটা সংযত। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নতুন আর্থিক নিয়ম আনার পর ক্লাবগুলো টেকসই ব্যয়ের পথে হাঁটছে। নিয়মিত খরচ কমেছে, বড় প্রকল্প যেমন নিয়ম শহর–এর কাজও ধীর হয়েছে। ২০২৯ এশিয়ান উইন্টার গেমস অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়েছে। সব মিলিয়ে, আগের মতো ‘অসীম অর্থের ঝড়’ আর নেই।
তাহলে কী চান রোনালদো?
রোনালদোর লক্ষ্য পরিষ্কার- ট্রফি জেতা এবং ১০০০ গোলের মাইলফলক ছোঁয়া। কিন্তু গোল পেলেও ট্রফি না পাওয়ায় ধৈর্য হারাচ্ছেন তিনি। আল-রিয়াদের বিপক্ষে ম্যাচে না থাকা সেই অসন্তোষেরই নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন প্রশ্ন একটাই- আল-নাসরের সঙ্গে রোনালদোর সম্পর্ক কি টানাপোড়েনের চূড়ান্ত পর্যায়ে? নাকি এটি কেবল সাময়িক অসন্তোষ?