মঙ্গলবার, ২৮শে এপ্রিল ২০২৬, ১৫ই বৈশাখ ১৪৩৩


ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে নারীকে ধর্ষণ চেষ্টা, পদ গেল বিএনপি নেতার

রংপুর থেকে

প্রকাশিত:২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:১৫

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে নারীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা না করতে ভুক্তভোগীকে হুমকি ধমকি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযুক্ত ওই নেতাকে পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দিয়েছে উপজেলা বিএনপি।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম রব্বানী। অভিযুক্ত ওই নেতার নাম মো. এনামুল হক। তিনি উপজেলার ভাংনী ইউনিয়ন বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভাংনী ইউনিয়নের ঠাকুরবাড়ি গ্রামের এক ভ্যানচালকের স্ত্রী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে ভোটের জন্য কাজ করেন। সেসময় বিএনপি নেতার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ওই নারীকে দলের পক্ষে ভোটের মাঠে কাজ করার পুরস্কার হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপি নেতা এনামুল হক। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) বেলা ১২টার সময় বিএনপি নেতা এনামুল ভুক্তভোগী ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনের নাম্বার চান। ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর নেওয়ার পরে বাড়িতে লোকজন না থাকার সুবাদে ওই নারীর সঙ্গে অশালীন কথাবার্তা বলার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী ওই নারীকে জড়িয়ে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এসময় ভুক্তভোগী ওই নারী অভিযুক্ত এনামুলকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে গিয়ে নিজেকে রক্ষা করেন।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযুক্ত ওই নেতাকে পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দিয়েছে মিঠাপুকুর উপজেলা বিএনপি। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করা হয়।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, ঈদের পরেই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে এমন কথা বলে বাড়িতে নম্বর নিতে আসে এনামুল। বাড়িতে লোকজন না থাকার সুবাদে আমাকে জড়িয়ে ধরে খারাপ কাজ করার চেষ্টা করেন তিনি। আমি অনেক কষ্টে ধাক্কা দিয়ে নিজেকে রক্ষা করেছি। এ ঘটনা জানাজানি হলে সে বলছে তার বিচার কেউ করতে পারবে না। আমরা গরিব মানুষ, আমার স্বামী ভ্যানচালক। আমি এ ঘটনার ন্যায্য বিচার চাই।

অভিযুক্ত বিএনপি নেতা এনামুল হক জানান, এ ধরনের কোনো ঘটনায় ঘটেনি। ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন ওই নারী। তবে কি কারণে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারেননি বিএনপির এই নেতা।

এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম রব্বানী বলেন, বিষয়টি জানার পর তাকে ইউনিয়ন বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও ঘটনাটি নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি প্রদান করা হবে।

মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়