জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েও আজ ‘গ্রিক গড’ হৃতিক রোশন
প্রকাশিত:
১১ জানুয়ারী ২০২৬ ১৯:৪৪
আপডেট:
১২ জানুয়ারী ২০২৬ ০২:১৬
বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় ও সুদর্শন অভিনেতা হৃতিক রোশন। গতকাল ১০ জানুয়ারি ৫২ বছরে পা দিয়েছেন এই তারকা। ১৯৭৪ সালে মুম্বাইয়ে জন্ম নেওয়া হৃতিক শুধু অভিনয় নয়, নাচ ও ফিটনেসের মাধ্যমেও ভেঙেছেন বহু প্রচলিত ধারণা। বয়স বাড়লেও তার উদ্যম আজও তরুণদের মতোই।
অভিনয়ের পাশাপাশি অসাধারণ নৃত্যশৈলীর জন্য তিনি আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন। ‘লক্ষ্য’ সিনেমার ‘ম্যায় আইসা কিঁউ হুঁ’ কিংবা ‘এক পল কা জিনা’ গান আজও দর্শকের মনে গেঁথে আছে। তবে খুব কম মানুষই জানেন, একসময় চিকিৎসকেরা হৃতিককে নাচ ও জিম পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
মাত্র ২১ বছর বয়সে হৃতিকের মেরুদণ্ডে জটিল রোগ—স্কোলিওসিস—ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, তার মেরুদণ্ড বাঁকা হওয়ায় ভারী শরীরচর্চা বা নাচ করা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি বলা হয়েছিল, তিনি কখনও নায়কসুলভ শরীরও গড়ে তুলতে পারবেন না। ‘কহো না প্যায়ার হ্যায়’ ছবির শুটিং শুরু হওয়ার আগেই এই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু হৃতিক রোশন হার মানেননি। চিকিৎসকদের সেই সতর্কবাণীকেই তিনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেন। শুরু করেন সীমিত পরিসরে শরীরচর্চা—প্রথমে ভারী বই দিয়ে, পরে ধীরে ধীরে ডাম্বেল ব্যবহার করে। নিয়মিত ফিটনেস অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তোলেন পর্দার উপযোগী করে। আজ তিনি শুধু নাচেই ফেরেননি, বরং একের পর এক অ্যাকশন ছবিতে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়ে চলেছেন।
এক সাক্ষাৎকারে হৃতিক বলেন, ‘চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন— আমার শরীর নাচ বা অ্যাকশন ছবির জন্য উপযুক্ত নয়। আমি সেটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। সীমাবদ্ধতার মধ্যেই কীভাবে নিজের সেরাটা দেওয়া যায়, সেটাই শিখেছিলাম।’
২০০০ সালে ‘কহো না… প্যায়ার হ্যায়’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন হৃতিক। তবে অভিনয়জীবন শুরু হয়েছিল আরও আগে—মাত্র ছয় বছর বয়সে দাদু জে ওম প্রকাশের ছবি ‘আশা’-তে অভিনয় করেন তিনি। সেই ছবির পারিশ্রমিক ১০০ টাকা দিয়ে কিনেছিলেন ১০টি হট হুইলস গাড়ি।
হৃতিক একজন প্রশিক্ষিত ডাইভার, খেলাধুলা ও সংগীতেও পারদর্শী। একসময় তোতলামির সমস্যায় ভুগলেও থেরাপির মাধ্যমে তা কাটিয়ে ওঠেন। তিনি ছিলেন চেইন স্মোকার, তবে অ্যালেন কার-এর ‘ইজি ওয়ে টু স্টপ স্মোকিং’ বই পড়ার পর ধূমপান ছাড়েন।
হৃতিকের আসল নাম হৃতিক নাগরথ, আর ডাকনাম ‘দুগ্গু’। অভিনয়ের প্রতি প্রবল আগ্রহের কারণে তিনি আমেরিকায় মাস্টার্সের স্কলারশিপও ছেড়ে দেন। পরে বাবার সঙ্গে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন।
আজ কোটি কোটি ভক্তের কাছে তিনি ‘গ্রিক গড’। তবে তার এই সফলতার পেছনে রয়েছে লড়াই, আত্মবিশ্বাস ও কঠিন রোগকে জয় করার এক অনুপ্রেরণামূলক গল্প।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: