দ্য হিন্দুকে প্রেস সচিব
চীনের আগে ভারত সফর করতে চেয়েছিলেন ড. ইউনূস
প্রকাশিত:
২৬ মার্চ ২০২৫ ১৫:০৪
আপডেট:
২৯ মার্চ ২০২৫ ১৫:৪৪

বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চীনের আগে ভারত সফর করতে চেয়েছিলেন। তবে ভারতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।
সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে এমনটাই জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) রাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় এই সংবাদমাধ্যমটি।
প্রসঙ্গত, ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবে চীনকে বেছে নিয়েছেন এবং চারদিনের সফরে বুধবার (২৬ মার্চ) বেইজিং যাচ্ছেন তিনি।
দ্য হিন্দু বলছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনূস চীন সফরের আগে ভারত সফর করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ঢাকার সেই সফরের অনুরোধে ভারতের পক্ষ থেকে “ইতিবাচক” সাড়া পাওয়া যায়নি বলে মঙ্গলবার দ্য হিন্দুকে জানিয়েছেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
তিনি বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ২৬ মার্চ চীন সফর করবেন। সেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠক করবেন এবং বাংলাদেশকে চীনা বিনিয়োগের জন্য বিশেষ করে উৎপাদন খাতে একটি গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরবেন।
ড. ইউনূস ভারতের সাথে উষ্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক চান উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, “আমরা আসলে আমাদের আগ্রহ দেখিয়েছিলাম এবং গত বছরের ডিসেম্বরে ভারতীয় পক্ষকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের ভারতে দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য অনুরোধ করেছিলাম। চীন সফর চূড়ান্ত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে এটি করা হয়েছিল। দুর্ভাগ্যবশত, আমরা কোনও ইতিবাচক সাড়া পাইনি।
দ্য হিন্দু বলছে, ড. ইউনূস হলেন দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় নেতা যাকে চার মাসের মধ্যে চীনে আতিথ্য দেওয়া হচ্ছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে. পি. শর্মা ওলি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে চার দিনের সফরে চীন ভ্রমণ করেছিলেন।
আওয়ামী লীগ, তাদের সহযোগী ও সমর্থকদের কাজ গুজব ছড়ানো : শফিকুল আলম
শফিকুল আলম আরও জানান, ড. ইউনূস চীন থেকে ফিরে আসার পর ৩-৪ এপ্রিল ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন। তিনি আরও বলেন, “আমরা থাইল্যান্ডে আসন্ন বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের সময় অধ্যাপক ইউনূস এবং মোদির মধ্যে বৈঠকের জন্য আরেকটি অনুরোধ করেছি এবং আমরা ভারতের প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করছি।”
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেন, ২৬-২৯ মার্চ চীন সফরের সময় বিশিষ্ট চীনা বিনিয়োগকারীদের সাথে বৈঠক করবেন ড. ইউনূস। কারণ তিনি বাংলাদেশকে একটি ব্যবসা-বান্ধব গন্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করতে আগ্রহী যা চীনা উৎপাদন ইউনিটগুলোকে সঠিক ব্যবসায়িক পরিবেশ প্রদান করবে।
তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে চীনা বিনিয়োগকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হয়, যার ফলে বাংলাদেশ বেসরকারি চীনা বিনিয়োগকে স্বাগত জানাতে পারে। সফরের এজেন্ডা সম্পর্কে শফিকুল আলম বলেন, “২৮ মার্চ প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠক ছাড়াও অধ্যাপক ড. ইউনূসকে পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে আতিথ্য দেওয়া হবে যেখানে তিনি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করবেন। এছাড়া ২৭ মার্চ বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া (বিএফএ) বার্ষিক সম্মেলনেও অংশগ্রহণ করবেন ড. ইউনূস।
ড. ইউনূস এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ফাঁকে নিউইয়র্কে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সাথে দেখা করেছিলেন এবং সেসময় ওয়াং বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টাকে “চীনা জনগণের পুরনো বন্ধু” হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন।
একই বৈঠকে ড. ইউনূস বাংলাদেশে সৌর প্যানেল তৈরির জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার প্রদত্ত এক ভাষণে ড. ইউনূস দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বাংলাদেশকে পরিণত করার আহ্বান জানান যা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর পাশাপাশি ভুটান এবং নেপালকে সমর্থন করবে। ভাষণে তিনি চীন সফরের ঘোষণা দেন এবং বলেন, মালয়েশিয়াও তাকে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে যা তিনি গ্রহণ করেছেন।
ভারত, নেপাল, ভুটান এবং চীনের জন্য বাংলাদেশকে ব্যবসা-বান্ধব অর্থনীতি হিসেবে তুলে ধরেন ড. ইউনূস বলেন, “ভৌগোলিক অবস্থান আমাদের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা দিয়েছে। কুমিরা থেকে টেকনাফ পর্যন্ত আমাদের একটি দীর্ঘ উপকূলরেখা রয়েছে যেখানে বেশ কয়েকটি শিল্প অঞ্চল এবং বন্দর রয়েছে। এটি এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতকে রূপান্তরিত করতে পারে।”
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: