রবিবার, ১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২রা ফাল্গুন ১৪৩২


‘বাংলা মানেই বাংলাদেশি’ বলায় ভারতজুড়ে বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত:৪ আগষ্ট ২০২৫, ০৭:৫১

ছবি ‍সংগৃহিত

ছবি ‍সংগৃহিত

ভারতের রাজধানীর বুকে ফের লাঞ্ছিত বাংলা ভাষা ও বাঙালি পরিচয়। দিল্লি পুলিশের একটি সরকারি চিঠিতে বাংলাকে ‘বাংলাদেশি ভাষা’ বলে উল্লেখ করায় ভারতজুড়ে ভাষা নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, লোদী কলোনি থানার পুলিশ আধিকারিক অমিত দত্ত সম্প্রতি বঙ্গভবনের অফিসার ইনচার্জের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই ভাষাগত অবমাননা করেছেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি একে সরাসরি ভারতীয় সংবিধানের অষ্টম তফসিল এবং ৩৪৩ ধারার লঙ্ঘন বলে চিহ্নিত করেছেন।

অভিষেক বলেন, বাংলা শুধু ভাষা নয়, এটি আমাদের পরিচয়, সংস্কৃতি এবং অস্তিত্ব। বাংলাকে বিদেশি ভাষা বলা একটি গভীর চক্রান্ত। বাঙালিকে নিজেদের দেশেই বহিরাগত প্রমাণ করার চেষ্টা চলছে।

তৃণমূলের অভিযোগ, এই চিঠি কোনো ভুল নয়, এটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক পদক্ষেপ। এ চক্রান্ত বাংলাভাষার ভারতীয় পরিচয় মুছে ফেলতে চায়। বিজেপি বরাবরই বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে বিষ ছড়িয়েছে। এবার দিল্লির পুলিশ দিয়ে সেটাকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করছে।

বিজেপি যদিও এ ঘটনার ভুল মানতে নারাজ। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, বাংলাদেশি বাংলা ও পশ্চিমবঙ্গের বাংলা আলাদা। শুধু বাংলা বললেই কেউ ভারতীয় হয়ে যায় না। আমরা এটা মানি না যে ভাষা দেখে কারো নাগরিকত্ব নিশ্চিত হবে।

তিনি বলেন, নকল পরিচয়পত্র নিয়ে বহু বাংলাদেশি এখন সরকারি প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়ছে। এটা রুখতেই এমন ব্যবস্থা।

বিশ্বজুড়ে ২৫ কোটিরও বেশি মানুষ বাংলায় কথা বলেন। এটি ভারতের সংবিধান স্বীকৃত অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাসম্পন্ন ভাষা। অথচ সেই ভাষাকেই যদি বাংলাদেশি বলে অপমান করা হয়, তাহলে তা শুধু ভাষার নয়, বরং গোটা এক জনগোষ্ঠীর অস্তিত্বের ওপরই আঘাত বলে মনে করছেন ভারতীয় ভাষা বিশ্লেষকরা।

বাংলা ভাষা নিয়ে এমন বিতর্ক এই প্রথম নয়। কিন্তু দিল্লি পুলিশের সরকারি চিঠিতে এ ধরনের মন্তব্য প্রমাণ করে, আজও ভারতবর্ষে বাঙালিকে পরিচয়ের লড়াই লড়তে হচ্ছে— নিজের ভাষা ও মাতৃভূমির প্রাপ্য সম্মান পেতে।

এ ঘটনা শুধু একটি ভাষা বিতর্ক নয়, এটি গোটা ভারতবর্ষের সাংবিধানিক মূল্যবোধ, ভাষাগত বৈচিত্র্যের মর্যাদা ও ফেডারাল কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধার বড় এক পরীক্ষা।

সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়