রবিবার, ৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৬শে মাঘ ১৪৩২


বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ ধনী গৌতম আদানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত:৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৪৩

 ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের তিন নম্বর ধনী ব্যক্তি হিসেবে গত সপ্তাহেই ব্লুমবার্গ বিলিওনেয়ার র‍্যাঙ্কিংয়ে উঠে এসেছেন ভারতের শিল্পপতি গৌতম আদানি। বিলিওনেয়ার র‍্যাঙ্কিংয়ে তার অবস্থান এখন স্পেসএক্সের ইলন মাস্ক ও অ্যামাজনের জেফ বেজোসের পরেই।

ধনসম্পত্তির বিচারে ভারতের এই শিল্পপতির অবস্থান বিল গেটস, ওয়ারেন বাফেটের ওপরে। তার মালিকানাধীন আদানি শিল্পগোষ্ঠীর সাম্রাজ্য এখন আফ্রিকা থেকে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। এমনকি বাংলাদেশেও রয়েছে তার বিনিয়োগ।

সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভারত সফরে গিয়ে প্রথম দিনেই এই ব্যক্তির সাথে একটি বৈঠক করেছেন শেখ হাসিনা। যদিও তাদের মধ্যে কী ধরণের আলাপ আলোচনা হয়েছে তার বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি, তবে ভারতীয় পর্যবেক্ষকদের মত, বৈঠকটি ছিল খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।

ভারতের গুজরাটে ১৯৬২ সালে জন্ম নেন গৌতম আদানি। ব্লুমবার্গ লিখেছে গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্যের ছাত্র ছিলেন তিনি। কিন্তু পড়াশুনা শেষ করেননি। ব্যবসা বাণিজ্যের মাধ্যমেই আজ তার অঢেল সম্পদ। আদানি গ্রুপের ওয়েবসাইটে যে তথ্য রয়েছে সেই মোতাবেক তার মোট সম্পদের পরিমাণ ২৪২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। আদানি গ্রুপের অধীনে রয়েছে মোট সাতটি কোম্পানি।

বন্দর ব্যবস্থাপনা, কয়লা উৎপাদন এবং কয়লার ব্যবসা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন, গ্যাস সরবরাহ, সড়ক ও রেলপথ নির্মাণ, প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ সরঞ্জাম উৎপাদন, বিমানবন্দর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা, আমদানি রফতানি পণ্য পরিবহন, আবাসন, ভোজ্যতেল, খাদ্যপণ্য এরকম নানা খাতে ব্যবসা রয়েছে কোম্পানিটির। আর এসব ব্যবসা শুধু ভারতে নয় আদানি গ্রুপ বিশ্বব্যাপী তার শিল্প সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে।

বাংলাদেশে তার কি ব্যবসা রয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে তার নামটি গুরুত্বের সাথে উঠে এসেছে। সফরের প্রথম দিনই সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যেবেলা আদানি শিল্পগোষ্ঠীর মালিক গৌতম আদানির সাথে বৈঠক হয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

বৈঠকের পরপরই মি. আদানি এক টুইট বার্তায় লিখেছেন , ‘আমরা ২০২২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবসের মধ্যেই আমাদের ১৬ শ মেগাওয়াট গোড্ডা বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ট্রান্সমিশন লাইন চালু করতে বদ্ধ পরিকর।’

যদিও এই বিদ্যুৎ বাংলাদেশ এখনো পেতে শুরু করেনি, কিন্তু এরই মধ্যে বাংলাদেশের কাছ থেকে সার্ভিস চার্জ বাবদ অর্থ পেতে শুরু করেছে মি. আদানির প্রতিষ্ঠান। ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মীয়মান কোম্পানিটির গোড্ডা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে আলাদা সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে সেখানে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় পুরোটাই বাংলাদেশে রফতানি করার কথা।

২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের সময় এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিষয়টি নিয়ে কথাবার্তা হয়। নরেন্দ্র মোদীর সাথে গৌতম আদানির বিশেষ সখ্যতার কথা ভারতীয় এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নানাভাবে উঠে এসেছে। ২০১৭ সালে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাথে চুক্তি হয়।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বাজারে মোড়কজাত সয়াবিন তেলের বড় বিক্রেতা আদানি গ্রুপ। বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেডের যৌথ মালিক ভারতের আদানি গ্রুপ এবং সিঙ্গাপুরের উইলমার ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ।

সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়