বৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল ২০২৬, ১৭ই বৈশাখ ১৪৩৩
প্রতীকী ছবি
আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীতে শ্রমিক সমাবেশের আয়োজন করছে বিএনপির অঙ্গসংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (২ মে) দুপুর ২টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশ শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
বিএনপি ও শ্রমিক দলের সূত্রে জানা গেছে, সমাবেশকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মঞ্চ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে এবং মাইক স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে।
সমাবেশে ঢাকা ও আশপাশের জেলার শ্রমিক দলের নেতাকর্মীদের যোগ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও অংশ নেবেন। সবমিলিয়ে সমাবেশ উপলক্ষ্যে লাখো নেতাকর্মীর সমাগমের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
শ্রমিক দলের সূত্র জানায়, সমাবেশের দিন ফকিরাপুল থেকে কাকরাইল পর্যন্ত সড়ক বন্ধ থাকবে। এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনগুলো বিকল্প পথে চলাচল করবে। তবে জরুরি সেবা, বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে। এছাড়া সমাবেশে আগত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এবং ভ্রাম্যমাণ টয়লেটের ব্যবস্থাও থাকবে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের সদস্য সচিব মো. বদরুল আলম সবুজ ঢাকা পোস্টকে বলেন, সমাবেশ সফল করতে গত ১০-১৫ দিন ধরে প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে সমাবেশের মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সমাবেশে ঢাকা ও আশপাশের জেলার শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন। এছাড়া জাতীয়তাবাদী দলের কর্মী-সমর্থকরাও অংশ নেবেন। আমরা আশা করছি, সমাবেশে প্রায় ৫ লাখ মানুষের সমাগম হবে।
তিনি বলেন, সমাবেশের দিন যানবাহনগুলোকে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ করা হয়েছে। তবে জরুরি সেবা, বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে, যাতে কোনো রোগী ভোগান্তিতে না পড়েন। এছাড়া মেডিকেল টিমের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা ও ভ্রাম্যমাণ টয়লেটের ব্যবস্থাও রাখা হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে শ্রমিক শ্রেণি দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করে আসছে। ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের সূচনা হয়। বাংলাদেশেও শ্রমিক সমাজ বরাবরই অবহেলিত থেকেছে এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে তারা বেঁচে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যাচ্ছে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, অতীতে অগণতান্ত্রিক শাসনামলে মালিকপক্ষের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ায় শ্রমিকরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে এবং তাদের সংগঠিত হওয়ার অধিকার সীমিত করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশ চলাকালে বিএনপি ও শ্রমিকদলের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আন্দোলনে হতাহতের ঘটনাও ঘটে।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা সাধারণ মানুষের জীবনমানকে কঠিন করে তুলেছে। একই সঙ্গে দেশে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়েছে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ন্যূনতম মজুরি কাঠামো হালনাগাদ হয়নি এবং সরকারি দপ্তরগুলোতে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্রমবাজার অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। এতে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী শিল্প খাতেও উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে এবং দেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়ছে।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)