বুধবার, ২৭শে মে ২০২৬, ১২ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


এমপি ইলহান ওমর, রাশিদা তালাইবকে দেশ থেকে বিতাড়িত করা উচিত : ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত:২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:০১

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসে ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণ দেওয়ার সময় চিৎকার করে প্রতিবাদী স্লোগান দেওয়ায় কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের দুই মুসলিম এমপি ইলহান ওমর এবং রাশিদা তালাইবের ওপর খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় ইলহান ও রাশিদা-কে ‘নিম্ন মেধার মানুষ’ উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তাদের আচরণ ‘কুটিল এবং দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদদের মতো’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থেই যে দেশ থেকে তারা এসেছেন— সেই দেশে তাদের পাঠানো উচিত এবং যত দ্রুত সম্ভব পাঠানো উচিত।

গত ২৪ অক্টোবর কংগ্রেসে ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণ দেন প্রেসিনডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে সময় অবৈধ অভিবাসী নির্মূল অভিযান ইস্যুতে যখন সাফাই দিচ্ছিলেন তিনি, তখনই চিৎকার করে প্রতিবাদ করেন বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির এমপি ইলহান ওমর এবং রাশিদা তালাইব। ইলহান ওমর বলেন, “আপনি মার্কিনীদের হত্যা করছেন।”

বুধবার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “গতকাল রাতে স্টেট অব দ্য ইউনিয়নের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সুন্দর একটি অনুষ্ঠানে আপনি যখন নিম্ন মেধার ইলহান ওমর এবং রাশিদা তালাইবকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে চিৎকার করতে দেখেন— তখন তাদের ফুলে ওঠার রক্তচক্ষু দেখে আপনার মনে হতেই পরে যে তারা পাগল, উন্মাদ, মানসিকভাবে বিকৃত, অসুস্থ এবং তাদের শিক্ষাদীক্ষার প্রয়োজন।”

“যারা এমন কুটিল দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিকদের মতো আচরণ করে, দেশের স্বার্থেই তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়ন করা উচিত। আমাদের উচিত তাদের সেখানে ফেরত পাঠানো— যেখান থেকে তারা এসেছে। যত দ্রুত এটা করা যায়, ততই ভালো। কারণ যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংস করা ছাড়া আর কোনো কাজ তারা করতে পারবে না।”

যুক্তরাষ্ট্রের মিনোসিটা অঙ্গরাজ্যের এমপি ইলহান ওমরের জন্ম সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুতে। ১৩ বছর বয়সে বাবা-মায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী হিসেবে এসেছিলেন তিনি।

আর রাশিদা তালাইবের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে হলেও জাতিগতভাবে তিনি ফিলিস্তিনি। তার বাবা-মা ফিলিস্তিন থেকে এসে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হন। রাশিদা ২০১৯ সাল থেকে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের এমপি।

দু’জনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের এই ভর্ৎসনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় ইলহান বলেছেন, “আমি যা বলেছি, বলেছি। আমি শুধু ট্রাম্পকে মনে করিয়ে দিতে চেয়েছি যে তার প্রশাসনের লোকজন অভিযানের নামে আমার সাংবিধানিক আসনে দু’জনকে হত্যা করেছে।”

আর রাশিদা তালাইব এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, “দু’জন মুসলিম নারী তাকে (ট্রাম্প) সংশোধন করতে চাইছে এবং তিনি তা মেনে নিতে পারছেন না। প্রেসিডেন্ট পাগল হয়ে গেছেন।”

নিজ বক্তব্য পোস্ট করার পাশাপাশি ‘প্রেসিডেন্টমাজনুন’ (প্রেসিডেন্ট পাগল) নামের একটি হ্যাশট্যাগও ব্যবহার করেছেন রাশিদা।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়