মঙ্গলবার, ২৬শে মে ২০২৬, ১২ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
জটিলতা কাটিয়ে একুশে পদক গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কবি মোহন রায়হান। তবে পুরস্কারের সমপরিমাণ অর্থ তিনি ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করবেন না; তা কোনো সামর্থ্যহীন কবি বা সাংস্কৃতিক কর্মীকে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সিদ্ধান্ত জানান।
সংবাদ সম্মেলনে কবি মোহন রায়হান বলেন, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রদানকে কেন্দ্র করে একটি অনভিপ্রেত, দুঃখজনক এবং বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমি কখনো এই পুরস্কারের প্রত্যাশী ছিলাম না, কোনো তদবির বা প্রচেষ্টা করিনি। বাংলা একাডেমি স্বপ্রণোদিত হয়ে আমাকে মনোনীত করেছিল।’
তিনি অভিযোগ করেন, নাম ঘোষণার পর একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে এবং ৪১ বছর আগে রচিত একটি কবিতাকে অজুহাত করে শেষ মুহূর্তে তার পুরস্কার স্থগিত করা হয়। মোহন রায়হান একে ব্যক্তিগত অপমানের পাশাপাশি ‘মুক্তচিন্তার প্রতি অবমাননা’ হিসেবে অভিহিত করেন।
পরবর্তীতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিক্রমে আগামী ২ মার্চ তাকে পুরস্কার প্রদান করা হবে। এ নিয়ে জাতীয় কবিতা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য পুরস্কার গ্রহণের পক্ষে মত দেন। কবি জানান, ষড়যন্ত্রের কাছে নতি স্বীকার করা মানে অপশক্তিকে জয়ী হতে দেওয়া– এমন যুক্তি ও প্রবীণদের উপদেশের ওপর ভিত্তি করেই তিনি পদক গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রাষ্ট্র পুনর্গঠন প্রসঙ্গে কবি জানান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনায় তিনি কলমের ও কথা বলার স্বাধীনতার চাওয়া ব্যক্ত করেছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতির প্রতি আস্থা রেখেই তিনি এই পদক গ্রহণ করছেন। তবে পুরস্কারের অর্থ গ্রহণ না করে তা কোনো সামর্থ্যহীন কবি, লেখক বা সাংস্কৃতিক কর্মীর কল্যাণে প্রদান করার আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে কবি মোহন রায়হান পুরস্কার প্রদানের নীতিমালা সংস্কার করে স্বচ্ছ, দলনিরপেক্ষ ও বিশেষজ্ঞনির্ভর প্রক্রিয়া প্রবর্তনের দাবি জানান। তিনি অতীতে কবি শামসুর রাহমানকে নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদারতার কথা স্মরণ করেন এবং নিয়ম অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকেই মর্যাদাপূর্ণভাবে পুরস্কারটি গ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।