মঙ্গলবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১ই ফাল্গুন ১৪৩২
প্রতীকী ছবি
আল্লাহর আদেশ অমান্য করার মাধ্যমে মানুষ গুনাহে লিপ্ত হয়। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে অশ্লীল বিষয়ে কল্পনা করতে নিষেধ করেছেন, অন্যায়ভাবে কোনোদিকে দৃষ্টিপাত করতে নিষেধ করেছেন। কারো সম্পদ আত্মসাৎ করতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু মানুষ আল্লাহর আদেশ অমান্য করে এইসব কাজে লিপ্ত হয়। এগুলো গুনাহে লিপ্ত করে এবং গুনাহের পাল্লা ভারী করে। পরকালে জান্নাত লাভের পরিবর্তে জাহান্নামের শাস্তি ত্বরান্বিত করে।
মানুষ যখনই কোনো গুনাহ করে তা অন্তরে একটি কালো দাগ অঙ্কিত করে এবং এর মাধ্যমে অন্তর কলুষিত হয়। অন্তর কলুষমুক্ত করতে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হয়। এতে করে গুনাহ মাফ করে নিষ্পাপ বানিয়ে দেন আল্লাহ তায়ালা।
এক হাদিসে হজরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—
মুমিন বান্দা যখন গুনাহ করে তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে। এরপর সে ব্যক্তি তওবা করলে ও ক্ষমা চাইলে, তার অন্তর পরিষ্কার হয়ে যায (কালিমুক্ত হলো), আর যদি গুনাহ বেশি হয় তাহলে কালো দাগও বেশি হয়। অবশেষে তা তার অন্তরকে ঢেকে ফেলে। এটা সেই মরিচা যার ব্যাপারে কোরআন মাজীদে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘এটা কখনো নয়, বরং তাদের অন্তরের উপর (গুনাহের) মরিচা লেগে গেছে, যা তারা প্রতিনিয়ত উপার্জন করেছে।’ (সূরা আল মুতাফফিফীন, আয়াত : ১৪)। (তিরমিজি, হাদিস :৩৩৩৪, ইবনু মাজাহ, হাদিস : ৪২৪৪, আহমাদ, হাদিস : ৭৯৫২)
অপর এক হাদিসে রাসূল সা. ইরশাদ করেন, মানুষের শরীরে একটি গোশতের টুকরা আছে। যদি এই গোশতের টুকরা ভালো হয়ে যায় তাহলে পূর্ণ শরীর ঠিক হয়ে যায়। আর যদি ওই গোশতের টুকরা নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে পূর্ণ শরীর নষ্ট হয়ে যায়। স্মরণ রেখো! ওই গোশতের টুকরার নাম অন্তর। (মুসলিম, হাদিস : ১৫৯৯)
তওবার নিয়ম
তওবা করার নিয়ম হলো- যেসব গুনাহ করেছেন তার ওপর অনুতপ্ত হওয়া আব্যশক এবং ভবিষ্যতে আর কখনো গুনাহ না করার করার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। এর জন্য তওবার নিয়তে দুই রাকাত নামাজ পড়াও উত্তম।
এই নামাজ অন্যান্য নামাজের মতোই। শুধু নামাজ পড়ার শুরুতে তওবার নিয়ত করে নিতে হবে। যেমন, নিয়তের সময় এভাবে বলবেন যে, হে আল্লাহ ! আমি দুই রাকাত তওবার নামাজ পড়ছি, আপনি নামাজ কবুল করুন। এরপর নামাজের বাকি কাজগুলো অন্য নামাজের মতোই হবে। এতে আলাদা কোনো নিয়ম নেই। নামাজ শেষে আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত হৃদয়ে দোয়া করতে হবে, গুনাহ থেকে মাফ চাইতে হবে।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)