মঙ্গলবার, ৩১শে মার্চ ২০২৬, ১৭ই চৈত্র ১৪৩২
ছবি : সংগৃহীত
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ শেষে করমর্দন ঘিরে বিতর্ক এখন এশিয়া কাপকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। সেই ঘটনার জেরেই এবার বড় সিদ্ধান্তের হুমকি দিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তারা জানিয়ে দিয়েছে, যদি আইসিসি ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটকে এশিয়া কাপের বাকি অংশ থেকে সরিয়ে না নেয়, তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বিপক্ষে নিজেদের গ্রুপ ম্যাচেই নামবে না পাকিস্তান।
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে ভারতীয় খেলোয়াড়রা পাকিস্তানের সঙ্গে করমর্দন না করে সরাসরি ড্রেসিং রুমে চলে যায়। সেই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলী আগা ও কোচ মাইক হেসন। এমনকি সালমান ম্যাচ শেষে উপস্থাপনা অনুষ্ঠানে গিয়ে ভারতের সাবেক ব্যাটার সঞ্জয় মঞ্জরেকারের সঙ্গে কথা বলতেও অস্বীকৃতি জানান।
এ ঘটনায় আইসিসিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানায় পাকিস্তান। আর আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচে পাইক্রফটকে ম্যাচ রেফারির ভূমিকায় রাখলে ম্যাচ বর্জনের হুমকিও দেওয়া হয়। তবে পাকিস্তান ক্রিকেটে বোর্ডের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে আইসিসি। দুই দলের ক্রিকেটারদের একে অপরের সঙ্গে করমর্দন না করার বিষয়ে পাইক্রফটের কোনো ভূমিকা নেই বলেই জানিয়েছে আইসিসি।
অন্যদিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে সাত উইকেটের জয়টি ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব উৎসর্গ করেন ভারতীয় সেনাদের প্রতি। তিনি বলেন, “কিছু বিষয় আছে যা খেলার স্পিরিটের বাইরেও গুরুত্বপূর্ণ।” এরই মধ্যে পাইক্রফটকে পাকিস্তান-ইউএই ম্যাচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন পাকিস্তান যদি সত্যিই মাঠে না নামে, তবে তার খেসারত দিতে হবে সালমান আগাদের দলকেই।
পাকিস্তান যদি ইউএই-এর বিপক্ষে না নামে, তবে সেটি সরাসরি ওয়াকওভার ধরা হবে এবং তারা এশিয়া কাপ থেকে বিদায় নেবে। বর্তমানে তাদের সংগ্রহ মাত্র ২ পয়েন্ট, যা এসেছে ওমানের বিপক্ষে একমাত্র জয়ে। অন্যদিকে ইউএই সোমবার ওমানকে ৪২ রানে হারিয়ে ২ পয়েন্ট পেয়েছে। যদি পাকিস্তান ম্যাচ বর্জন করে, তবে ইউএই-এর পয়েন্ট দাঁড়াবে ৪-এ। এতে সহজেই তারা সুপার ফোরে জায়গা করে নেবে।
ভারত আগেই ইউএই ও পাকিস্তানকে হারিয়ে ৪ পয়েন্ট নিশ্চিত করেছে। ফলে পাকিস্তান মাঠে না নামলে ভারত ও ইউএই-ই এগিয়ে যাবে পরবর্তী পর্বে।তবে যদি পাকিস্তান ইউএই-এর বিপক্ষে ম্যাচ খেলে, তবে সেটি হবে সরাসরি নকআউট ধরনের লড়াই। জিতলেই সুপার ফোর, হারলেই বিদায়। এখন দেখার বিষয়, পিসিবি সভাপতি মোহসিন নাকভি ও তার বোর্ড আসলেই হুমকি বাস্তবায়ন করে কি না, যদি আইসিসি পাইক্রফটকে প্যানেল থেকে না সরায়।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)