বুধবার, ১১ই মার্চ ২০২৬, ২৭শে ফাল্গুন ১৪৩২
ফাইল ছবি
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট এখনো কাটেনি। অধিকাংশ মুদি দোকানগুলোতে বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে। বিকল্প হিসেবে দেশি ব্র্যান্ডের বাড়তি দামের ক্যানোলা অয়েল বিক্রিতে ঝুঁকছেন অনেকে।
আর খোলা তেলও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। সুপারশপগুলোতেও তিন-চারদিন ধরে সয়াবিন তেলের সরবরাহ নেই। কোন কোন সুপারশপে নির্ধারিত পরিমানে সীমিত সয়াবিন তেল বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বুধবার (১১ মার্চ) ঢাকার সবুজবাগ, মুগদা, মানিকনগর ও খিলগাঁও এলাকা ঘুরে সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকটের এমন চিত্র দেখা গেছে।
মগদা বাজারে দেখা যায়, অধিকাংশ মুদি দোকানগুলোতে বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই। কোন কোন দোকানে ৫ লিটারের বোতল থাকলেও এক-দুই লিটারের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না। বোতলজাত তেলে দাম না বাড়লেও দোকানগুলোতে কমিশনের ওপর নির্ভর করে আগে যে ছাড় দেয়া হতো সেটি এখন নেই। ফলে বোতলের ওপর লেখা নির্ধারিত দামেই বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল।
মুগদা রহমান জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. এমদাদুল বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চাহিদা অনুযায়ী এক ও দুই লিটার তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। ৫ লিটারের তেল পাওয়া গেলেও আগে যে কমিশন দেয়া হতো ডিলার পর্যায় থেকে, এখন সেটি কমানো হয়েছে। ৫ লিটারের বোতল আগে ডিলার পর্যায় থেকে ৯৩০ টাকা রাখা হলেও এখন সেটি ৯৪০ থেকে ৯৪৫ টাকা রাখা হচ্ছে। এতে আমাদেরও বোতলের ওপরে নির্ধারিত ৯৫৫ টাকার নিচে বিক্রির সুযোগ থাকছে না। আগে ভালো কমিশন পাওয়ায় ভোক্তা পর্যায়ে ৯৪৫ থেকে ৯৫০ টাকায় বিক্রি করতে পারতাম।
বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কম থাকায় কোথাও কোথাও খোলা সয়াবিন তেলের কেজি ২১০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। রোজার শুরুতে খোলা সয়াবিন তেলের কেজি বিক্রি হয়েছে ১৯৫ থেকে ২০০ টাকা দরে। গত সপ্তাহেও ২০০ থেকে ২০৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আজ রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোলা সয়াবিন তেল ২০৮ থেকে ২১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এদিকে অনেকগুলো সুপারশপ ঘুরে দেখা গেছে বোতলজাত সয়াবিন তেলের পর্যাপ্ত সরবহার নেই। কোন কোন সুপারশপে মুদি দোকানের মতো এক ও দুই লিটারের সয়াবিন তেল পাওয়া যায়নি।
চেইন সুপারশপ স্বপ্ন এর মানিকনগর শাখার কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের শপে সর্বশেষ গত শনিবার ১ ও ২ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে। মাঝে তিনদিন সরবরাহ না থাকায় বিক্রি বন্ধ ছিলো। আজ মেঘনা গ্রুপের 'ফ্রেশ' ব্র্যান্ডের তেল এসেছে। এখনো বিক্রি শুরু হয়নি।
তাদের প্রতিটি শাখায় একজন ক্রেতার কাছে দিনে সর্বোচ্চ এক লিটারের ৩টি অথবা ২ লিটারের দুটি কিংবা ৫ লিটারের একটি বোতল বিক্রির লিমিট দেয়া রয়েছে বলেও জানান কর্মীরা।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)