বৃহস্পতিবার, ৭ই মে ২০২৬, ২৪শে বৈশাখ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
সরকারি ঔষধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডে পরিদর্শন করেছেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আলমগীর হোসেন।
আজ বুধবার (৬ মে) তিনি রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির ঢাকা কারখানা আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেন। গত ২৮ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন।
পরিদর্শনকালে মহাপরিচালকের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আঃ সামাদ মৃধা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মো. আকতার হোসেন ও পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. শফিকুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনের সময় মহাপরিচালক উৎপাদন ইউনিট, মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগ, গুদামজাতকরণ ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। তিনি ঔষধ উৎপাদনের প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন এবং গুণগত মান নিশ্চিতে কঠোর অবস্থান নেন।
বিশেষ করে মান নিয়ন্ত্রণে উন্নত পরীক্ষার ক্ষেত্রে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে মহাপরিচালক আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে ঔষধ উৎপাদনের ওপর জোর দেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তিনটি নির্দেশনা দেন।
প্রথমত, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
দ্বিতীয়ত, জনবলের দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
তৃতীয়ত, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “জনগণের জন্য নিরাপদ, কার্যকর ও মানসম্মত ঔষধ প্রস্তুতে কোনো আপস করা হবে না।”
পরিদর্শনকালে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আঃ সামাদ মৃধা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, ঢাকা কারখানার নিকটে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত জমিতে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বহুতল ঔষধ উৎপাদন কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া গোপালগঞ্জ কারখানায় সাপের বিষ প্রতিষেধকসহ বিভিন্ন টিকা উৎপাদনের জন্য পৃথক স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে হাম-রুবেলা, জলাতঙ্ক ও ডেঙ্গু প্রতিরোধী টিকার শেষ ধাপের উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বগুড়া কারখানায় উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং খুলনা কারখানায় মোড়ক তৈরির পৃথক স্থাপনা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত ঔষধ সরবরাহ আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অতিরিক্ত সচিব মো. আলমগীর হোসেনকে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)