গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করছেন ট্রাম্প: নেদারল্যান্ডস
প্রকাশিত:
১৮ জানুয়ারী ২০২৬ ১৭:১৯
আপডেট:
১৮ জানুয়ারী ২০২৬ ১৯:৩৯
ইউরোপীয় মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রিনল্যান্ড বিক্রি করতে রাজি না হলে তাদের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের যে হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছেন, তা সরাসরি ‘‘ব্ল্যাকমেইল’’। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউরোপের আট দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ার পর এই মন্তব্য করেছেন নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ভ্যান উইল।
ডাচ টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডেভিড ভ্যান উইল বলেন, তিনি (প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প) যা করছেন, তা ব্ল্যাকমেইল... এবং এটি একেবারে অপ্রয়োজনীয়। এতে জোটের (ন্যাটো) কোনও উপকার হয় না। এমনকি গ্রিনল্যান্ডেরও কোনও উপকার হয় না।
এর আগে, শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড ও গ্রেট ব্রিটেন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
এসব দেশ গ্রিনল্যান্ডে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর মহড়ায় সৈন্য পাঠাতে রাজি হওয়ায় ওই শুল্ক আরোপের হুমকি দেন ট্রাম্প। ভ্যান উইল বলেন, গ্রিনল্যান্ডে এই মিশনের উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রকে দেখানো যে, ইউরোপ গ্রিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষায় সহায়তা করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তিনি গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে কূটনীতি ও বাণিজ্যের মধ্যে যোগসূত্র টানার বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থানের বিরোধিতা করেন।
ট্রাম্প জোর দিয়ে বলে আসছেন, তিনি গ্রিনল্যান্ডের পূর্ণ মালিকানা ছাড়া অন্য কিছুতে রাজি হবেন না। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই ভূখণ্ডটির কৌশলগত অবস্থান ও খনিজ সম্পদের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি দাবি করেছেন।
তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড—উভয় পক্ষের নেতারাই বলেছেন, দ্বীপটি বিক্রির জন্য নয় এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চায় না। ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকির জবাবে কী করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের রাষ্ট্রদূতরা রোববার জরুরি বৈঠকে বসছেন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: