শুক্রবার, ২৩শে জানুয়ারী ২০২৬, ১০ই মাঘ ১৪৩২


গ্রিনল্যান্ড নিয়ে চিন্তা নেই রাশিয়ার, দাম হতে পারে ১০০ কোটি ডলার : পুতিন


প্রকাশিত:
২৩ জানুয়ারী ২০২৬ ০৯:৫৬

আপডেট:
২৩ জানুয়ারী ২০২৬ ১৬:৩৭

ছবি-সংগৃহীত

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা নিয়ে রাশিয়ার কোনো মাথাব্যথা নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে বিদ্যমান এই বিষয়টি তাদের নিজেদেরই সমাধান করা উচিত। তবে এ সময় দ্বীপটির প্রতি দেশ দুটির ঐতিহাসিক আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

এদিকে গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইউরোপের দেশগুলোর যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা বেশ উপভোগ করছে মস্কো। যদিও এই পরিস্থিতির প্রভাব রাশিয়ার ওপর পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ আর্কটিক বা উত্তর মেরু অঞ্চলে রাশিয়ার আগে থেকেই শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে।

বুধবার দাভোসে দেওয়া এক বক্তব্যে গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে এই ইস্যুতে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। ডেনমার্কের এই আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ নিরসনে একটি চুক্তির দিকে এগোনোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। উল্লেখ্য, এই ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দশকের মধ্যে আটলান্টিক পাড়ের দেশগুলোর (যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ) কূটনৈতিক সম্পর্কে সবচেয়ে বড় ফাটল ধরার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে কথা বলেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের এই উদ্যোগে রাশিয়ার কোনো আপত্তি নেই। পুতিনের ধারণা মতে, কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপটির বাজারমূল্য প্রায় ১০০ কোটি ডলার হতে পারে।

রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, গ্রিনল্যান্ডে যা কিছু ঘটছে, তা নিয়ে আমাদের বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই।

ডেনমার্কের সমালোচনা করে রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ডেনমার্ক সবসময়ই গ্রিনল্যান্ডকে একটি উপনিবেশ হিসেবে গণ্য করে এসেছে। দ্বীপটির প্রতি তাদের আচরণ ছিল অত্যন্ত কঠোর, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে তা নিষ্ঠুরও বলা চলে। তবে সেটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় এবং বর্তমানে এটি নিয়ে কারও তেমন আগ্রহ নেই।

মূল্য কি ১০০ কোটি ডলার?
ইউক্রেনকে ডেনমার্কের আর্থিক ও সামরিক সহায়তা প্রদান মস্কোকে ক্ষুব্ধ করেছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইউক্রেনের যে চারটি অঞ্চলকে রাশিয়া নিজেদের বলে দাবি করেছিল, বর্তমানে সেগুলো পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে পুতিন সরকার।

এদিকে, গ্রিনল্যান্ডের ওপর রাশিয়ারও শকুনি দৃষ্টি রয়েছে—ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে বিরক্তি প্রকাশ করেছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে তারা ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সমালোচনা করা থেকে বিরত রয়েছে। কারণ, ট্রাম্প বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে একটি মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছেন। বরং গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের দাবির প্রতি মস্কো কিছুটা সহানুভূতিশীল বলেই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ মন্তব্য করেছেন যে, সম্পদে ভরপুর বিশাল এই দ্বীপটি ডেনমার্কের কোনো ‘স্বাভাবিক অংশ’ নয়। উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ডে আগে থেকেই মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে।

এদিকে এ ধরনের ভূখণ্ড কেনাবেচার নজির টেনে ভ্লাদিমির পুতিন মনে করিয়ে দেন যে, ১৮৬৭ সালে রাশিয়া মাত্র ৭২ লাখ ডলারে আলাস্কাকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করেছিল। এ ছাড়া ১৯১৭ সালে ডেনমার্কও তাদের ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ ওয়াশিংটনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিল।

আলাস্কা বিক্রির সেই দামকে বর্তমান মুদ্রাস্ফীতি, গ্রিনল্যান্ডের আয়তন এবং স্বর্ণের দামের পরিবর্তনের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি হিসাব তুলে ধরেন পুতিন। তার মতে, ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১০০ কোটি ডলার খরচ হতে পারে। পুতিন মনে করেন, এই অর্থ খরচ করার সক্ষমতা ওয়াশিংটনের রয়েছে।

সবশেষে রুশ প্রেসিডেন্ট আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, আমার মনে হয় তারা (যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক) নিজেদের মধ্যেই বিষয়টি সমাধান করে নেবে।

সূত্র : রয়টার্স।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক: মো. জেহাদ হোসেন চৌধুরী

রংধনু মিডিয়া লিমিটেড এর একটি প্রতিষ্ঠান।

Developed with by
Top