বৃহস্পতিবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ই ফাল্গুন ১৪৩২
প্রতীকী ছবি
রোজায় অনেকেই অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগে থাকেন। বিশেষ করে যারা খাবারের বিষয়ে খুব একটা সচেতন নয়, তাদের বড় অংশকেই এই সমস্যায় ভুগতে দেখা যায়। ইফতারের আয়োজনে ভারী ও মসলাদার খাবার, ডুবো তেলে ভাজা মুখরোচক একাধিক খাবারও এর পেছনে বড় একটা ভূমিকা রাখে।
তাই রোজায় অ্যাসিডিটিসহ আরও অনেক স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে দূরে থাকতে চাইলে আপনাকে সবার আগে ইফতার ও সাহরির খাবারের দিকে মনোযোগী হতে হবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, রোজায় অ্যাসিডিটি দূর করতে কী খাবেন-
কলা
কলা প্রাকৃতিকভাবে ক্ষারীয় এবং পাকস্থলীর অ্যাসিডকে নিউট্রাল করতে সাহায্য করতে পারে। এতে পটাসিয়াম এবং প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড রয়েছে যা পেটের আস্তরণকে আবৃত করতে সাহায্য করে, অ্যাসিডিটির জ্বালাপোড়া কমায়। সেইসঙ্গে কলা শ্লেষ্মা উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে, পেটের আস্তরণকে অ্যাসিডের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
তীব্র গ্যাস এবং অ্যাসিডিটির জন্য ঘরোয়া প্রতিকার হিসাবে কলা রাখুন। প্রতিদিন সেহরি বা ইফতারে একটি পাকা কলা খাওয়ার চেষ্টা করুন। এটি আপনি শুধুও খেতে পারেন আবার কোনো খাবারের সঙ্গে মিশিয়েও খেতে পারেন। রমজানে আপনার খাদ্যতালিকায় এই সহজ সংযোজনটি প্রাকৃতিকভাবে পাকস্থলীর অ্যাসিডের মাত্রা ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং স্বাস্থ্যকর হজম বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।
ঠান্ডা দুধ
রোজায় অ্যাসিডিটির সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে এক গ্লাস ঠান্ডা দুধ একটি কার্যকরী প্রতিকার হতে পারে। দুধের রয়েছে পেটের অ্যাসিডকে নিউট্রাল করার ক্ষমতা। এটিই এর কার্যকারিতার মূল চাবিকাঠি। ক্যালসিয়াম কার্বনেট, একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড, দুধ অতিরিক্ত পেটের অ্যাসিডের উৎপাদন কমাতে সাহায্য করে।
ঠান্ডা দুধ পেটের অতিরিক্ত অ্যাসিড কার্যকরভাবে শোষণ করে এবং জ্বালাপোড়া আস্তরণের ওপর প্রশান্তিদায়ক প্রভাব ফেলে, যা অ্যাসিডিটির বদলে প্রশান্তি এনে দেয়। তবে আপনার যদি ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স থাকে তাহলে দুধ না খাওয়াই ভালো। রোজা ছাড়াও অন্যন্য সময় যদি আপনি ঘন ঘন অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগে থাকেন তাহলে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
ডাবের পানি
রোজায় যদি আপনি অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগে থাকেন তবে ইফতারে বাইরে থেকে কেনা ইন্সট্যান্ট শরবতের বদলে বেছে নিন প্রাকৃতিক পানীয়। সেটি হতে পারে ডাবের পানি। অ্যাসিডিটি নিরাময়ে ডাবের পানি বিশেষভাবে কার্যকরী। ডাবের পানি খেলে পেটে জমে থাকা গ্যাসের সমস্যা দূর হয় সহজেই। এই পানি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। সেইসঙ্গে ডাবের পানিতে থাকে উপকারী মিনারেলসও।
প্রতিদিন ইফতারে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত জুস বা কেমিকেলযুক্ত শরবতের বদলে খেতে পারেন ডাবের পানি। এটি আপনাকে রমজানে সতেজ ও শক্তিশালী রাখতেও কাজ করবে। সেইসঙ্গে দূর হবে অ্যাসিডিটির মতো সমস্যাও।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)