বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লায় মাটি, জালিয়াতি ধরতে তদন্ত কমিটি
প্রকাশিত:
২৬ মার্চ ২০২৫ ১৭:১২
আপডেট:
৩০ মার্চ ২০২৫ ০১:০৩

কক্সবাজারের মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির জন্য আমদানি করা কয়লার চালানে বিপুল পরিমাণ কাদামাটি পাওয়া গেছে। এই কয়লা সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে মেঘনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ইউনিক সিমেন্ট। বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো স্পর্শকাতর কাজে মাটিমিশ্রিত কয়লা কেন সরবরাহ করল মেঘনা গ্রুপ, তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে।
কমিটিতে বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন-১) মোহাম্মদ সানাউল হককে আহ্বায়ক করা হয়েছে। অন্য সদস্যরা হলেন— বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (উন্নয়ন-৫) মোহাম্মদ হোসেন পাটোয়ারী এবং বিপিডিবির উপপরিচালক (বেসরকারি প্রকল্প) মো. নাজমুল হক। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ বলেন, আমরা এরইমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি এবং তাদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিম্নমানের এই কয়লা ব্যবহার করলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাবে।
এ কারণে ৬৩ হাজার টন কয়লার বিশাল এই চালানটি ফিরিয়ে দিয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (সিপিজিসিবিএল)। সিপিজিসিবিএলের কর্মকর্তারা বলছেন, টেন্ডারের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা সংগ্রহের দায়িত্ব পাওয়া মেঘনা গ্রুপের কোম্পানি ইউনিক সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড এবং ভারতের আদিত্য বিরলা গ্লোবাল ট্রেডিং কোম্পানি পিটিই (সিঙ্গাপুরের রেজিস্টার্ড) এই চালান পাঠায়। কিন্তু চালানটির কয়লায় বিপুল পরিমাণ মাটি ছিল। ফলে এই কয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহারোপযোগী নয়।
৬৩ হাজার মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে জাহাজটি বন্দরে এলে প্রায় ২০ হাজার টন কয়লা খালাস করা হয়। কিন্তু এসব কয়লা খালাস করতে গিয়ে দেখা যায়, কয়লার সঙ্গে কালো রঙের কাদামাটি। স্বাভাবিকভাবে কয়লা কালো ও শুকনা থাকে। কিন্তু আমদানি করা কয়লার সঙ্গে কাদামাটি মিশ্রিত আর ভেজা। তাই এসব কাদামাটি খালাস না করে ফেরত পাঠিয়েছে সরকারি এই সংস্থাটি।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: