বৃহস্পতিবার, ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩০শে মাঘ ১৪৩২


সারাদেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন

Saima

প্রকাশিত:১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:৫৪

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

বড় ধরনের কোনো সহিংসতা ছাড়া সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ২৯৯টি আসনে সম্পন্ন হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ। বিভিন্ন স্থানে জাল ভোট, সহিংসতা, ককটেল বিস্ফোরণের কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। এখন চলছে গণনার জন্য অপেক্ষা।

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, সাড়ে ছয় ঘণ্টায় (দুপুর ২টা পর্যন্ত) সারাদেশে ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রে ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ।

বিকাল সাড়ে ৪টার পরেও যেসব ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি থাকবে তাদের প্রত্যেকের ভোট নেওয়া হবে।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীন অনুষ্ঠিত সর্বশেষ তিনটি জাতীয় নির্বাচনই ছিল বিতর্কিত। এর মধ্যে ২০১৪ সালের নির্বাচন ‘একতরফা’, ২০১৮ সালের নির্বাচন ‘রাতের ভোট’ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচন ‘আমি-ডামির নির্বাচন’ হিসেবে পরিচিতি পায়। সর্বশেষ তিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে দুজন এখন কারাগারে। ভোটারদের একটি বড় অংশই বিগত নির্বাচনগুলোতে ভোট দিতে পারেনি, যার কারণে এবার ভোট নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা রয়েছে। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া সার্বিকভাবে ভোটের প্রচারও ছিল শান্তিপূর্ণ।

ভোটগ্রহণে দায়িত্ব পালন করে সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, বিজিবিসহ বিভিন্ন বাহিনীর সাড়ে ৯ লাখের বেশি সদস্য। ভোট দেওয়ার জন্য দুই দিন ধরে বিপুলসংখ্যক মানুষকে উৎসবমুখর পরিবেশে বাস, লঞ্চ, ট্রেনে গ্রামের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে।

একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। ২৯৯টি আসনে এবারের নির্বাচনে ইসিতে নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ৫০টি দল অংশ নিয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করেছে ইসি। ফলে দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।

১৯৯১ সাল থেকে সব কটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবার ভোটে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনি জোটের মধ্যে। স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো কোনো জাতীয় নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি। এর মধ্যে ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী ভোটার আছেন ৫ কোটির বেশি। অন্যদিকে মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী। ফলাফল নির্ধারণে তরুণ ও নারী ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়