মঙ্গলবার, ১৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫ই ফাল্গুন ১৪৩২


ক্রীড়াবিদদের মধ্যে প্রথম টেকনোক্রেট মন্ত্রী হচ্ছেন আমিনুল

Jehad chowdhury

প্রকাশিত:১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:১০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ক্রীড়াঙ্গন থেকে অনেকে সংসদ সদস্য-মন্ত্রী হয়েছেন। সাবেক কোনো ক্রীড়াবিদের টেকনোক্র্যাট হিসেবে মন্ত্রী হওয়ার রেকর্ড সেই অর্থে নেই। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক টেকনোক্রেট মন্ত্রী হচ্ছেন।

আজ সকালে নব নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ শপথ নিয়েছেন। বিকেল চারটায় মন্ত্রীরা শপথ গ্রহণ করবেন। সকাল থেকেই অনেক সংসদ সদস্য মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার ফোন পেয়েছেন। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হকও ফোন পেয়েছেন।

আমিনুল হক ঢাকা-১৬ আসন থেকে জাতীয় নির্বাচন করেছিলেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে জামায়াত ইসলামের প্রার্থী কর্নেল (অব) আব্দুল বাতেনের কাছে হারেন। সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রী পরিষদের সর্বোচ্চ ১০ ভাগ টেকনোক্র্যাট (সংসদ সদস্যের বাইরে) মন্ত্রী পরিষদে থাকতে পারে। সাধারণত বিশিষ্ট ব্যক্তি যাদের বিশেষ বিষয়ে অভিজ্ঞতা ও অসাধারণ দক্ষতা এবং দলের ত্যাগী নেতাদের টেকনোক্যাট কোটায় মন্ত্রী করা হয়। কোনো সাবেক ক্রীড়াবিদ নির্বাচনে পরাজিত হয়ে কিংবা টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী কখনো হননি। আমিনুল হকই প্রথম।

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি আমিনুলের ফুটবলার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু। ফরাশগঞ্জ,আবাহনী, মোহামেডান, মুক্তিযোদ্ধাসহ দেশের সকল শীর্ষ ক্লাবে দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে খেলেছেন। গোলের খেলা ফুটবলে গোলরক্ষক হয়েও আমিনুল দীর্ঘদিন ঘরোয়া ফুটবলে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ফুটবলার ছিলেন। জাতীয় ফুটবল দলে তিনি ছিলেন এক নম্বর গোলরক্ষক। ২০০৩ সালের সাফ জয়ের অন্যতম নায়ক তিনি। ২০১০ এসএ গেমসে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ছিলেন। আন্তর্জাতিক অনেক ম্যাচে তার অসাধারণ গোলরক্ষক পারফরম্যান্সে বাংলাদেশে বড় দলের বিপক্ষে ড্র করেছে কিংবা ন্যূনতম ব্যবধানে হেরেছে। বিশেষ করে পেনাল্টি থেকে গোল সেভ করার দারুণ দক্ষতা ছিল তার। বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলরক্ষকও বলা হয় তাকে।

ফুটবলার হিসেবে অবসর নেওয়ার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে যুক্ত হন। গত এক যুগের বেশি সময় অনেক জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সাবেক তারকা ফুটবলার ও বাংলাদেশের অধিনায়কের শরীর রক্তাক্ত ও হ্যান্ডক্যাপের ছবি নাগরিক সমাজে নাড়া দিয়েছিল অনেক। তরুণ হলেও বিএনপির প্রতি তার নিবেদন ও ত্যাগের মাত্রা ছিল অসীম। জাতীয় নির্বাচনে হারলেও ক্রীড়াঙ্গন ও দলীয় অবদান বিবেচনায় আমিনুল হককে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করার দাবি ছিল ক্রীড়াঙ্গনের।

স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে সাবেক তারকা ফুটবলারদের মধ্যে মেজর হাফিজই প্রথম মন্ত্রীত্ব পেয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘদিন পর আরেক সাবেক জাতীয় ফুটবলার আরিফ খান জয় ক্রীড়া উপমন্ত্রী হয়েছিলেন। আমিনুল হক তৃতীয় সাবেক জাতীয় ফুটবলার হিসেবে মন্ত্রী হতে চলছেন।

বিগত তিন চার দশকে (সাদেক হোসেন খোকা, হারুনুর রশিদ, সালাম মুর্শেদী, সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মোর্তজা, হাসানুল হক ইনু, আলী আজরগর লবি,এহসানুল হক মিলনসহ আরও অনেকে) ক্রীড়াবিদ,সংগঠক ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট অনেকেই সংসদ-সদস্য ও মন্ত্রীত্ব করেছেন। কিন্তু তাদের কেউই টেকনোক্র্যাট ছিলেন না। 

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনা ছিল বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল বিএনপি নির্বাচনে জয়লাভ করলে সাবেক জাতীয় ফুটবল অধিনায়ক ও বিএনপির ত্যাগী-নিবেদিতপ্রাণ নেতা আমিনুল হক ক্রীড়া মন্ত্রী হবেন। জাতীয় নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৬ আসন থেকে হেরে যাওয়ায় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে টেকনোক্রেট কোটায় আমিনুল নাকি অন্য কেউ?

আমিনুল হক মন্ত্রী সভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন। সাধারণত যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী একজনই দায়িত্ব পালন করেন। সেই হিসেবে ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট সবারই অনুমান সাবেক ফুটবলার আমিনুল হকই যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন। ঘণ্টা খানেক পরই আগামী দিনের বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক কে হচ্ছেন আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যাবে।

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়