রবিবার, ৬ই এপ্রিল ২০২৫, ২২শে চৈত্র ১৪৩১


ড. ইউনূসের বক্তব্যে ভারত কেন নাখোশ?


প্রকাশিত:
৫ এপ্রিল ২০২৫ ১৩:০০

আপডেট:
৬ এপ্রিল ২০২৫ ০২:৩৪

ছবি সংগৃহীত

ভারতের মধ্যে সবসময় চীনা ভীতি কাজ করে থাকে। এর কারণ জানতে হলে ফিরে যেতে হবে কিছুটা অতীতে। চীনের কয়েক শত বছরের রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হয়ে ১৯১২ সালে সান ইয়াৎ সেন (১৮৬৬-১৯২৫) হন চীন প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট। সে সময় তিব্বত ছিল এক প্রকার স্বাধীন দেশ। অঞ্চলটি নামমাত্র ছিল চীনের অধীন। ১৯১৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের সরকার চায় ব্রিটিশ ভারত ও তিব্বতের মধ্যে সীমান্ত চিহ্নিত করতে। এই লক্ষ্যে ব্রিটিশ ভারতের সরকার হিমাচলের শিমলায় একটি সম্মেলন ডাকে। সেখানে তিব্বতের প্রতিনিধির পাশাপাশি চীনের প্রতিনিধিকেও ডাকা হয়। ওই সম্মেলনে ব্রিটিশ ভারতের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন ম্যাক মাহন (Mac Mahon)। ম্যাক মাহন যে সীমান্ত রেখা অঙ্কিত করেন তিব্বতের প্রতিনিধি সেটা মেনে নেন। কিন্তু চীনের প্রতিনিধি সেদেশের কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে ম্যাক মাহন লাইনকে ভারত ও তিব্বতের মধ্যে সীমারেখা মানতে অস্বীকার করেন এবং কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর না করে ফিরে যান নিজ দেশে।

১৯৪৮ সালে মাও সেতুংয়ের নেতৃত্বে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি চীনের ক্ষমতায় আসে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহরু ওই সরকারকে চীনের প্রকৃত সরকার হিসেবে মেনে নেন। ১৯৫৪ সালে তিনি চীনের সাথে ভারতের সম্পর্ককে দাঁড় করাবার জন্য চীন-ভারত একটা বিশেষ চুক্তিতে উপনীত হন। ওই চুক্তিতে ভারত তিব্বতের ওপর চীনের কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বময় কর্তৃত্ব মেনে নেয়। তবে চীনের ওই তিব্বতীয় অংশ ও ভারতীয় অংশের সীমান্ত নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। ভারত চায়, চীন ম্যাক মাহন রেখাকে মেনে নিক। আর চীন তা মানতে অস্বীকার করে। চীন যুক্তি পেশ করে, 'তার প্রতিনিধি তিব্বত এবং ভারতের মধ্যে সীমানা নির্ধারণকারী ম্যাক মোহন সীমান্ত রেখাকে তখন (১৯১৪ সালে) মানেনি। সেসময় তিব্বত সরকারের কোনো অধিকারই ছিল না ব্রিটিশ ভারতের সরকারের সাথে ওই ধরনের কোনো চুক্তি করার। চীনা প্রতিনিধি তা স্বাক্ষর না করে বেরিয়ে গিয়েছিল। তাই এখন (১৯৫৪ সালে) যেহেতু ভারত সরকার তিব্বতের ওপর চীনের কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বময় কর্তৃত্ব মেনে নিয়েছে, সেহেতু নতুন করে চীনের সাথে ভারতের সীমান্ত চুক্তি হতে হবে।'

এদিকে, লাদাখ অঞ্চল একসময় ছিল তিব্বতের অংশ। কাশ্মীরের ডোগরা রাজা ১৮৮৪ সালে এই অঞ্চল দখল করেন। ফলে লাদাখ পরিণত হয় কাশ্মীরের একটি জেলা হিসেবে। কিন্তু ১৯৪৮ সালে ক্ষমতায় বসা চীনের কমিউনিস্ট সরকার লাদাখকে তাদের এলাকা বলে দাবি করে এবং লাদাখের বিস্তীর্ণ এলাকার ওপর প্রতিষ্ঠা করে চীনের কর্তৃত্ব। ১৯৪৭ সালে সদ্য স্বাধীন দেশ ভারত তা ঠেকাতে পারেনি কিংবা ঠেকাতে চায়নি। চীন তিব্বত থেকে লাদাখের মধ্য দিয়ে একটি সড়ক নির্মাণ করে জিং জিয়াং প্রদেশে (উইঘুর মুসলিমদের এলাকা) যাওয়ার জন্য। ভারত ওই সড়ক নির্মাণে কোনো আপত্তি করেনি। কিন্তু পরে সে দাবি করতে আরম্ভ করে যে, লাদাখ ভারতের অংশ। ফলে ১৯৬২ সালে শুরু হয় ভারত-চীন সীমান্ত যুদ্ধ। ভারত সেই যুদ্ধে চীনের কাছে খুব শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। লাদাখ অঞ্চলে চীন ভারতের কাছ থেকে ৮২৮৮০ বর্গকিলোমিটার জায়গা দখল করে নেয় এবং সেই দখল এখনও বজায় রেখেছে। লাদাখ অঞ্চলের মানুষ দেখতে তিব্বতিদের মতোই এবং ধর্মে তারা হিন্দু নয়, তিব্বতিদের মতোই লামা বৌদ্ধবাদী।

ব্রিটিশ শাসনামলে নর্থ ইস্টার্ন ফ্রন্টইয়ার এজেন্সি (NEFA) বলতে বোঝাত তখনকার আসাম প্রদেশের একটা অংশকে, যা শাসিত হতো আসাম প্রদেশের গভর্নর দিয়ে। এখন এই অঞ্চল নিয়ে ভারত গড়েছে তার একটি প্রদেশ, যার নাম দেওয়া হয়েছে অরুণাচল। ভারত অরুণাচল প্রদেশ গঠন করেছে ১৯৭২ সালে। চীন দাবি করে ভারতের অরুণাচল প্রদেশ তিব্বতের অংশ। ভারতের অরুণাচল প্রদেশের মোট আয়তনের ৮৩৭৪৩ বর্গকিলোমিটারের মধ্যে ৭৭৭০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা চীন তার নিজের বলে দাবি করছে। অর্থাৎ চীন প্রায় সম্পূর্ণ অরুণাচল প্রদেশকেই তার নিজের বলে দাবি করে। ১৯৬২ সালে এই অরুণাচল প্রদেশ এলাকাতেও চীনের সাথে ভারতের যুদ্ধ হয়। ভারত এখানে চীনের সাথে যুদ্ধে আরও করুণভাবে পরাজিত হয়। অরুণাচল অঞ্চলে এখন ভারতীয় সৈন্যরা ম্যাক মাহন রেখা থেকে বিশ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণে সরে এসে অবস্থান করছে।

ভুটান ছিল ব্রিটিশ ভারতের একটি করদ রাজ্য। ১৯৪৭ সালের পর ভুটান হয়ে পড়ে কার্যত ভারতের আশ্রিত একটি রাজ্য। তবে ভুটান এখন পূর্বের অবস্থা থেকে অনেকটা বেরিয়ে স্বাধীন হয়ে থাকার পর্যায় পৌঁছেছে। চীন ভুটানের পূর্ব ভাগের ৭৭৭ বর্গকিলোমিটার জায়গা তার নিজের বলে দাবি করছে। দোকলাম গিরিপথ এই অঞ্চলে অবস্থিত। দোকলাম গিরিপথের মধ্য দিয়ে চীন একটি সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। ভারত এই সড়ক নির্মাণে বাধা দিতে পাঠিয়েছে সৈন্য। দোকলাম নিয়ে ভারত-চীন সংঘাতের মুখোমুখি হয়ে রয়েছে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে, ভুটান দোকলামের ওপর চীনের কর্তৃত্ব মেনে নিতে চাচ্ছে। কিন্তু ভারত চাচ্ছে না। ভুটান পড়েছে দোটানায়। মনে হচ্ছে সে ভারতকে টপকে চীনের সাথে একটা কোনো চুক্তি করে ফেলতেও পারে।

এক কালে সিকিমও ছিল তিব্বতের অংশ। পরবর্তীতে সিকিম ব্রিটিশ ভারতের একটি করদ রাজ্যে পরিণত হয়। ১৯৪৭ সালের ব্রিটিশরা এ উপমহাদেশ থেকে ছেড়ে যাওয়ার পর সিকিম হয়ে পড়ে ভারতের একটি আশ্রিত রাজ্য। ১৯৬২ সালের যুদ্ধে ভারত চীনের নিকট পরাজিত হওয়ার পর চীনা ভীতি থেকে সিকিমের দিকে নজর দেয়। অতঃপর ভারত ১৯৭৫ সালে সিকিমকে দখল করে নেয়। সিকিম এখন চাচ্ছে স্বাধীন হতে। সিকিমের লেপচা জনগোষ্ঠী চাচ্ছে তাদের স্বাধীনতার সংগ্রামে চীনের সাহায্য পেতে। মনে হচ্ছে চীন তাদের সাহায্য করতেই ইচ্ছুক।

ভারত-চীন যুদ্ধ কখন বাধবে তা আগাম কেউ বলতে পারে না। সেটা নির্ভর করবে ভারত ও চীনের বৈরিতার মাত্রার ওপর। চীন-ভারত উভয়েই সবসময় সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দিয়েছে। তবে চীন ভারতের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে এবং দেশটি অগ্রসর হচ্ছে একটা দীর্ঘমেয়াদি সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে। চীন পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের গোয়াদরে একটি সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করেছে। শোনা যায় সেখানে গোপনে বিরাট এক চীনা সাবমেরিন ঘাঁটি গড়ে তোলা হয়েছে। অন্যদিকে, চীন শ্রীলঙ্কার কাছ থেকে হামবানতোতা বন্দর ৯৯ বছরের জন্য ইজারা নিয়েছে। সেখানেও নাকি দেশটি গোপনে গড়ে তুলছে এক বিরাট সাবমেরিন ঘাঁটি। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত মালদ্বীপের সাথেও চীন সখ্যতা গড়ে তুলেছে। এসব থেকে মনে হয়, চীন চাচ্ছে ভারতকে নৌপথেও ঘিরে ফেলতে। অথচ এর বিপরীতে ভারত চীনকে এখনও এভাবে নৌপথে ঘিরে ফেলার কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। পাকিস্তানের সাথে ভারতের রয়েছে আদি শত্রুতা। দেশ দুটি কার্যত হয়ে রয়েছে যুদ্ধের মুখোমুখি। চীন-ভারত সংঘাত বাঁধলে পাকিস্তান নেবে চীনের পক্ষ। ওদিকে ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপাল ২০১৬ সাল থেকে হয়ে উঠেছে খুবই ভারতবিরোধী। তাই চীন-ভারত সংঘাত বাঁধলে নেপালকে পাশে পাওয়ার সম্ভাবনা কম ভারতের।

চীনের চুম্বি উপত্যকা থেকে বাংলাদেশ সংলগ্ন ভারতের শিলিগুড়ি করিডোর ১৩০ কিলোমিটারের মতো দূরে অবস্থিত। চীন-ভারত সংঘাত বাধলে চীন চাইতে পারে এই করিডোর বা যাতায়াত পথ দখল করে নিতে। শিলিগুড়ি করিডোর বলতে বোঝায় বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে অবস্থিত ২৭ কিলোমিটার চওড়া জায়গাকে। এই করিডরের সবচেয়ে সরু অংশটা মাত্র ২১ কিলোমিটার চওড়া, যার আশেপাশেই রয়েছে ৫টি দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত। এই দেশগুলো হলো চীন, ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ, নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ। এই জায়গার মধ্য দিয়ে ভারতের প্রধান ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পূর্ব ভারতের সাতটি প্রদেশ, যাকে বলা হয় সাত বোন রাজ্য বা সেভেন সিস্টার্স। ভারতের মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি শহরের কাছে অবস্থিত এই করিডর দেখতে অনেকটা মুরগির বাঁকানো ঘাড়ের মতো। তাই এই জায়গাটাকে চিকেন নেক বলা হয়। যুদ্ধকালে এই করিডরের ওপর ভারতের কর্তৃত্ব না থাকলে ভারতকে তার পূর্বাঞ্চলের সাতটি প্রদেশের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে। তবে বাংলাদেশ কি ভারতকে এটা করতে দেবে? কেননা এটা করতে গেলে বাংলাদেশও চীনের দ্বারা হতে পারে আক্রান্ত। তাছাড়া বাংলাদেশের মানুষও হয়ে রয়েছে তীব্র ভারতবিরোধী। তাই চীন-ভারত যুদ্ধে বাংলাদেশকে থাকতে হবে নিরপেক্ষ। কিন্তু ভারত চাইবে যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে তাদের সাত বোন রাজ্যকে রক্ষা করতে। বাংলাদেশকে ভারত যেসব কৌশলগত দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে সেসবের মধ্যে এটাই প্রধানতম কারণ। এছাড়া অগ্নিগর্ভ আসাম, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, মনিপুর এসব রাজ্যের বিদ্রোহীদের দমন করতে তড়িৎ সামরিক সরবরাহের জন্য বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করবার প্রয়োজনীয়তা বোধ করে ভারত। এসব গুরুত্বের প্রতি লক্ষ্য রেখেই ভারত চায় এ দেশে তার অনুগত একটি রাজনৈতিক দল থাকুক। যে দলটি সিকিমের মতো বাংলাদেশকে ভারতের হাতে তুলে দিক কিংবা গোপন কতগুলো চুক্তি করে দেশকে ভারতের করদ রাজ্যে পরিণত করুক।

২৮ মার্চ বেইজিংয়ের দ্য প্রেসিডেন্সিয়াল অডিটোরিয়ামে চীনা ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এক সংলাপে ড. ইউনূস বাংলাদেশে বঙ্গোপসাগর ঘিরে বাণিজ্য ও ব্যবসা সম্প্রসারণে সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নেপাল ও ভুটান স্থলবেষ্টিত দেশ, যাদের কোনো সমুদ্র নেই। ভারতের সাতটি উত্তর-পূর্ব রাজ্যও স্থলবেষ্টিত। আমরাই এই অঞ্চলের জন্য সমুদ্রের একমাত্র অভিভাবক। তিনি এসব দেশের মধ্যে যোগাযোগ সংযোগ স্থাপনের ওপর জোর দেন, যা বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। তিনি বলেন, চীন এটাকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রসারের কথা ভাবতে পারে। ড. ইউনূসের এই বক্তব্য ঘিরে ভারতে তোলপাড় শুরু হয়। দেশটির রাজনীতিবিদ, নিরাপত্তা বিশ্লেষক, সাবেক কূটনীতিবিদরা এবং মূলধারার গণমাধ্যম ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ড. ইউনূসের বক্তব্যকে তারা বিপজ্জনক ও আক্রমণাত্মক আখ্যা দেয়। তাদের কেউ কেউ বাংলাদেশকে ভেঙে ফেলার হুমকি দেন।

ভারতের সাত রাজ্যকে ল্যান্ড লকড (স্থলবেষ্টিত) বলা কিংবা বাংলাদেশ এ অঞ্চলের সমুদ্রের অভিভাবক, ড. ইউনূসের এসব শব্দমালা চয়ন আদৌ কোনো সামরিক হুমকির কথন নয়। বরং তা পারস্পরিক স্বার্থ অর্জনের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার বাস্তব কথা। এ অঞ্চলে অর্থনৈতিক যোগাযোগ গড়ে তোলার কথা তিনি আগেও বলেছেন। তিনি ২০১২ সালে একই ধরনের কথা বলেছিলেন। এর চেয়েও এগিয়ে গিয়ে ২০২৩ সালে জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিশিদা ভারতের নয়াদিল্লিতে দাঁড়িয়ে নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া এবং বাংলাদেশকে একটা ভ্যালু চেইনে আবদ্ধ করার কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সিঙ্গেল ইকোনমিক জোন (একক অর্থনৈতিক অঞ্চল) গঠনের কথা, যেটিকে এখন 'বিগ বি ইনিশিয়েটিভ’ বলা হয়। বস্তুত নেপাল, ভুটান ও ভারতের ৭ রাজ্যের সমুদ্র বন্দর ও সাগরে প্রবেশের সুযোগ না থাকায় বাংলাদেশের সাথে কানেক্টিভিটি (যোগাযোগ) তাদের অর্থনীতি জন্য সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে। বিনিময়ে বাংলাদেশ পেতে পারবে ভুটান ও নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সস্তা দামের বিদ্যুৎ। চীনের মতো বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সস্তা দামের বিদ্যুতের প্রতি আগ্রহী থাকে। এতে তাদের কারখানার শিল্প উৎপাদন খরচ কমে যায়।

ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে ড. ইউনূসের বলা এসব কথার ভিন্ন ব্যাখ্যা করেছে ভারতীয় কর্তাব্যক্তিরা। এ থেকে তারা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব খুঁজে ফিরে বাংলাদেশকে কোণঠাসা করার অজুহাত দাঁড় করিয়েছে। আসলে ভারতকে হাসিনার মতো সুবিধা না দেওয়ায় ড. ইউনূস দেশটির শাসকবর্গের কাছে হয়ে পড়েছেন চক্ষুশূল। ভারত কখনোই চায় না এদেশে একজন দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়ক মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকুক। এ কারণেই ভারত সাত মাস ধরে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার সরকারের বিরুদ্ধে চালিয়ে যাচ্ছে অবিরাম প্রোপাগান্ডা।

জুবায়ের হাসান ।। রাজনৈতিক বিশ্লেষক



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক: মো. জেহাদ হোসেন চৌধুরী

রংধনু মিডিয়া লিমিটেড এর একটি প্রতিষ্ঠান।

Developed with by
Top