মঙ্গলবার, ১৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫ই ফাল্গুন ১৪৩২
ফাইল ছবি
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নিয়েছেন নতুন এবং পুরনো মিলিয়ে বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার একঝাঁক সদস্য। কিন্তু সেই তালিকায় স্থান পাননি পৌনে এক ডজনেরও বেশি জ্যেষ্ঠ ও পরিচিত মুখ, যারা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে বেশ আলোচনায় ছিলেন।
মির্জা আব্বাস
ঢাকা-৮ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস। এবারও তাকে মন্ত্রী করা হতে পারে বলে জোর আলোচনা চলছিল। কিন্তু মন্ত্রীদের তালিকায় পাওয়া যায়নি তার নাম। অর্থাৎ, তাকে কোনো মন্ত্রণালয় দেয়নি বিএনপি সরকার।
ড. আব্দুল মঈন খান
বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই রাজনীতিককে মন্ত্রী করা হতে পারে, তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার হতে পারেন- এমন নানা আলোচনা ছিল। কিন্তু মন্ত্রী হিসেবে তার জায়গায় হয়নি বিএনপি সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায়। দল থেকে তাকে কী দায়িত্ব দেওয়া হয়, সেদিকে তাকিয়ে সবাই।
ড. রেজা কিবরিয়া
গণঅধিকার পরিষদের সাবেক নেতা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী এ এস এম কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া। এবারের নির্বাচনে তিনি বিএনপির টিকিটে ভোটে লড়েছেন, বিজয়ীও হয়েছেন। রেজা কিবরিয়া তার বাবার মতো অর্থমন্ত্রী হতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন ছিল। কিন্তু মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণের সময় তার নাম ডাকা হয়নি, অর্থাৎ তাকে কোনো মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়।
ফজলুর রহমান
এবারের নির্বাচনের প্রার্থিতা ঘোষণার বহু আগেই থেকেই নানা কারণে আলোচনায় ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান। তিনি দলের মনোনয়ন পাবেন কি না, এ নিয়ে ছিল বড় সংশয়। অবশেষে ফজলুর রহমানকে কিশোরগঞ্জ-৪ আসন থেকে প্রার্থী করে বিএনপি, বিপুল ভোটে তিনি বিজয়ীও হয়েছেন।
ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই জোর গুঞ্জন চলছিল, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন ফজলুর রহমান। কিন্তু আদতে তিনি কোনো মন্ত্রণালয়েরই দায়িত্ব পাননি।
এছাড়াও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে আলোচনায় থাকা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ওসমান ফারুক, রুহুল কবির রিজভী, আমানুল্লাহ আমান, শামসুজ্জামান দুদু ও লুৎফুজ্জামান বাবরও মন্ত্রিত্ব পাননি। তারা প্রত্যেকেই আলোচনায় ছিলেন।
এদের মধ্যে নজরুল ইসলাম খান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ওসমান ফারুক রাষ্ট্রপতি হওয়ার আলোচনায় আছেন। আবার এদের মধ্য থেকে যে কেউ জাতীয় সংসদের স্পিকার হতে পারেন বলেও গুঞ্জন আছে।
অন্যদিকে তরুণ তুর্কীদের মধ্যে এবার মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি তথ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হতে পারেন বলে শোনা গিয়েছিল। এছাড়া সেলিম ভূঁইয়া, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, আজিজুল বারী হেলাল, হুম্মম কাদের চৌধুরী, রকিবুল ইসলাম বকুল প্রমুখও মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীদের তালিকায় নেই।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল চারটার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ পড়েন নতুন সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ পড়েন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এর আগে সকাল ১০টায় প্রথমে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে শপথ পড়েন বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। এরপর দুপুর ১২টায় জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটের এমপিদের শপথ পড়ান সিইসি।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)