সোমবার, ২৫শে মে ২০২৬, ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আমেজ। তীব্র গরমে জনজীবন কিছুটা অস্বস্তিকর হয়ে উঠলেও তাতে ভাটা পড়েনি মানুষের উদযাপনে। সকাল থেকেই রাজধানীর শাহবাগ, রমনা পার্ক, টিএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা এলাকা ঘিরে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো, ছবি তোলা আর পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকে রাজধানীর শাহবাগ, রমনা, টিএসসি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে। লাল-সাদা পোশাকে সেজে ওঠা তরুণ-তরুণীরা দল বেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অনেকেই ঐতিহ্যবাহী নকশার পোশাকে সেজে ছবি তুলছেন, কেউবা সেলফিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। চারুকলা ইনস্টিটিউটের আশপাশে গালে রঙতুলির আঁচড়ে ‘শুভ নববর্ষ’ লিখিয়ে নিতেও দেখা গেছে অনেককে।
বাড্ডার কালাচাঁদপুর এলাকা থেকে পরিবার নিয়ে নববর্ষ উদযাপনে আসা রাজিব হোসেন বলেন, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এসেছি। গরম একটু বেশি হলেও এই দিনের আনন্দটাই আলাদা। সবাই একসঙ্গে বের হতে পারছি, সেটাই বড় কথা।
এদিকে শাহবাগ মোড় ঘেঁষে ফুলের দোকানগুলোতেও দেখা গেছে বাড়তি ভিড়। গোলাপ, গাঁদা ফুলের মালা, রজনীগন্ধাসহ বিভিন্ন ফুল কিনতে মানুষের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে ক্রেতারাদের অভিযোগ, চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও কিছুটা বেড়েছে।
অন্যদিকে, প্রচণ্ড গরমে স্বস্তি পেতে পানির চাহিদাও বেড়েছে ব্যাপকভাবে। বিভিন্ন স্থানে বোতলজাত পানি ও ডাব বিক্রেতাদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। ডাব বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা দরে। আব্দুর রহমান নামের এক ডাব বিক্রেতা বলেন, গরমের কারণে ডাবের চাহিদা অনেক বেশি। সারাদিন ভালো বিক্রি হচ্ছে।
এর আগে, আজ সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ শোভাযাত্রায় শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার কয়েক হাজার মানুষের অংশগ্রহণ করে।
এবারের শোভাযাত্রায় বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে পাঁচটি প্রধান মোটিফ। এরমধ্যে রয়েছে—মোরগ, বেহালা বা দোতারা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া। এগুলো যথাক্রমে শক্তি, সৃজনশীলতা, শান্তি, গৌরব ও গতিময়তার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।