রবিবার, ৫ই এপ্রিল ২০২৬, ২২শে চৈত্র ১৪৩২
প্রতীকী ছবি
মৃতব্যক্তির নাকে ও কানে তুলা দেওয়া আমাদের সমাজে এক প্রচলিত নিয়ম। অনেকে একে হজের ইহরামের মতো কোনো ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা মনে করেন। তবে ইসলামি ফিকহ ও বাস্তবতার নিরিখে দেখা যায়, এটি কোনো ফরজ বিধান নয়, বরং একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা মাত্র।
শরিয়তের বিধান: বৈধ ও মোস্তাহাব
ইসলামের মূল উৎসগুলোতে মৃতদেহের নাকে বা কানে তুলা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশ নেই। তবে, এর ভালো দিক রয়েছে। ফিকহবিদদের মতে-
তরল বের হওয়া রোধ: যদি মৃতদেহের নাক বা কান দিয়ে পানি বা রক্ত বের হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে সেখানে তুলা দেওয়া বৈধ বা মোস্তাহাব (পছন্দনীয়)। যেন কাফনের কাপড় কোনোভাবে অপবিত্র না হয়।
স্বাভাবিক অবস্থায় প্রয়োজন নেই: যদি শরীর থেকে কোনো কিছু বের হওয়ার ভয় না থাকে, তবে তুলা দেওয়ার কোনো ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা নেই।
ফতোয়ার কিতাব যা বলে-
ফতোয়ায়ে শামি: যদি লাশের কোনো ছিদ্রপথ দিয়ে তরল বের হওয়ার ভয় থাকে, তবে তুলা ব্যবহার করা যেতে পারে। (২য় খণ্ড, ১৯৩ পৃষ্ঠা)
আল-বাহরুর রায়েক: এটি কেবল প্রয়োজনের সাথে সম্পৃক্ত একটি বিষয়।
বাস্তব ও বৈজ্ঞানিক কারণ
মৃতদেহের নাকে-কানে তুলা দেওয়ার পেছনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাস্তব কারণও রয়েছে-
পোকা-মাকড় বা জীবাণু রোধ: মৃত্যুর পর শরীরের ছিদ্রপথ দিয়ে যেন কোনো ক্ষুদ্র পোকা-মাকড় বা জীবাণু ভেতরে ঢুকতে না পারে, সেজন্য তুলা ব্যবহার করা হয়।
পচন ধীর করা: সরাসরি বাতাস শরীরে প্রবেশ করলে পচন প্রক্রিয়া দ্রুত হতে পারে। তুলা বাতাস চলাচলে বাধা দিয়ে পচন কিছুটা ধীর করে।
আকৃতি ঠিক রাখা: অনেক সময় মৃত্যুর পর পেশি শিথিল হয়ে যাওয়ার ফলে চোখ, নাক বা মুখের আকৃতি বদলে যেতে পারে বা ফুলে যেতে পারে। তুলা ব্যবহারের মাধ্যমে চেহারার স্বাভাবিক অবয়ব বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়।
প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা
আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে যে, ‘তুলা না দিলে জানাজা হবে না’ অথবা ‘তুলা দেওয়া একটি ইবাদত।’ এগুলো ভুল ধারণা। মনে রাখা জরুরি-
১. এটি কেবল একটি বাড়তি সতর্কতা, কোনো ফরজ বা সুন্নত নয়।
২. অপ্রয়োজনে বা অতিরিক্ত জোর করে লাশের নাকে-কানে তুলা গুঁজে দেওয়া ঠিক নয়। এতে লাশের সম্মান ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
সংক্ষেপে বলা যায়, লাশের নাকে ও কানে তুলা দেওয়ার মূল লক্ষ্য হলো কাফনের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং মৃতদেহের বাহ্যিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। ইসলামে এটি কোনো বাধ্যতামূলক বিধান নয়। মৃতব্যক্তির মর্যাদা রক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমিত ব্যবস্থা গ্রহণ করাই সঠিক পদ্ধতি।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)