ডা. তাহেরর চেয়ে স্ত্রীর সম্পদ কয়েকগুণ বেশি
প্রকাশিত:
৩ জানুয়ারী ২০২৬ ১০:৪৬
আপডেট:
৩ জানুয়ারী ২০২৬ ১৩:১৯
নিয়ম অনুযায়ী কুমিল্লাসহ সারাদেশের প্রার্থীরা তাদের হলফনামা নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছেন। প্রার্থীদের হলফনামায় উঠে আসছে নানান চমকপ্রদ তথ্য। তবে বর্তমান সময়ে দেশের আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে গত ২৯ ডিসেম্বর নিজ হাতেই মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামা জমা দেন ডা. তাহের। হলফনামা অনুযায়ী, এই প্রার্থীর স্ত্রী ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরীর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ তার চেয়ে দ্বিগুণ। তার বার্ষিক আয় ১০ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ আছে এক কোটি ৭০ লাখ টাকার কিন্তু প্রার্থীর সম্পদের পরিমাণ তার অর্ধেক অর্থাৎ ৮৫ লাখ টাকার।
আরও বিস্ময়কর ডা. তাহেরের স্ত্রীর স্থাবর সম্পদ ডা. তাহেরের তুলনায় পাঁচগুণ। স্ত্রীর নামে আছে ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পত্তি। আর প্রার্থীর নামে আছে মাত্র এক কোটি টাকার সম্পত্তি। যার মধ্যে প্রার্থী ও তার স্ত্রীর ৫৪ লাখ ৮৮ হাজার ২৩৫ টাকার অকৃষি জমি রয়েছে। সেই সঙ্গে আছে তিন বাড়ি যার মূল্য তিন কোটি ২২ লাখ ৫৩ হাজার ৭০০ টাকা।
হলফনামায় উল্লেখ করা তথ্য মতে, এই প্রার্থীর স্ত্রীর সম্পদ বেশি থাকলেও ঋণ আছে ৩৮ লাখ ২২ হাজার ৭২৩ টাকার। কিন্তু প্রার্থী কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে প্রতিষ্ঠানের ঋণ আছে তিন কোটি ১৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ৫ আগস্টের পূর্বেও প্রার্থীর নামে ছিল ৩৭টি মামলা যার ৩৫টি থেকে ২০২৪ ও ২৫ সালে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এখনও দুটি মামলা চলমান। ২০২৫-২৬ বছরে জামায়াতের এই নেতা আয়কর দিয়েছেন ১২ হাজার ৩২৯ টাকা। তার স্ত্রী আয়কর দিয়েছেন আট লাখ ৭ হাজার ১৫৫ টাকার।
মনোনয়ন জমা শেষে সাংবাদিকদের ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করে গড়ে তুলতে উদগ্রীব হয়ে আছে নতুন ও তরুণ ভোটাররা। তারা ইসলামী দলগুলোর জোটকে ভোট দিতে প্রস্তুত।
কুমিল্লার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, প্রার্থীদের দেয়া হলফনামার তথ্য যাচাই বাছাইয়ের পরই মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা হবে। কোনো প্রার্থী তথ্য গোপন করলে তার প্রার্থীতা বাতিলও করতে পারেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসন থেকে প্রার্থী হতে ১০৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: