ইরান বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিলে ‘কঠোর ব্যবস্থার’ হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
প্রকাশিত:
১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ১১:৫২
আপডেট:
১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ১৫:২০
ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর করলে যুক্তরাষ্ট্র ‘অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা’ নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেই কঠোর ব্যবস্থার ধরন স্পষ্ট না করলেও তেহরান তার সতর্কতাকে ‘সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
মঙ্গলবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘ওরা যদি এমন কিছু করে, তাহলে আমরা অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেব।’ এর আগেও একাধিকবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, ‘যখন তারা হাজার হাজার মানুষ হত্যা করতে শুরু করে...আর এখন আপনারা ফাঁসির কথাও বলছেন। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত বিষয়টি তাদের জন্য কী পরিণতি ডেকে আনে।’
এর আগে মঙ্গলবার ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ইরানিদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি লেখেন, ‘বিক্ষোভকারীদের নির্বিচার হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল করেছি। সহায়তা আসছে। এমআইজিএ (মেক ইরান গ্রেট এগেইন)!!!
এমআইজিএ বলতে ‘ইরানকে আবার মহান করো’ বোঝায়, যা ট্রাম্পের দেশীয় স্লোগান, ‘আমেরিকাকে আবার মহান করো’- এর একটি ভিন্ন রুপ।
ট্রাম্পের এমন বার্তার পর নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কাও করছেন অনেকে।
ইতোমধ্যেই ইরানের ওপর চালানো যেতে পারে এমন বেশ কয়েকটি সামরিক ও গোয়েন্দা পদক্ষেপের বিষয়ে ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুইজন কর্মকর্তার বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, সম্ভাব্য মার্কিন পদক্ষেপের ক্ষেত্রে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এখনো একটি বিকল্প হিসেবে রয়েছে। তবে পেন্টাগন কর্মকর্তারা সাইবার অভিযান এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির জন্য প্রচারণার বিষয়েও প্রস্তাব দিয়েছেন।
এছাড়াও সোমবার ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা দেশগুলোর পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, আরও বিক্ষোভকারী নিহত হলে তার সেনাবাহিনী খুব শক্তিশালী বিকল্প বিবেচনা করছে। তার দাবি, ইরানি নেতারা তাকে ‘আলোচনার জন্য ফোন করেছেন’, তবে তিনি যোগ করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বৈঠকের আগেই পদক্ষেপ নিতে হতে পারে’।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতনের পর গত ২৮ জানুয়ারি তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা প্রথমে এ আন্দোলন শুরু করেন। যা অল্প কয়েকদিনের মধ্যে সহিংস আন্দোলনে রূপ নেয়। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা নজিরবিহীন এই অস্থিরতায় নিরাপত্তা কর্মীসহ প্রায় ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন একজন ইরানি কর্মকর্তা। এরমাধ্যমে এই প্রথম ব্যাপক মৃত্যুর সংখ্যা স্বীকার করল ইরানি কর্তৃপক্ষ।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: