যেকোনো মার্কিন হামলার ‘শক্তিশালী জবাব দিতে’ প্রস্তুত ইরান: আরাগচি
প্রকাশিত:
২৯ জানুয়ারী ২০২৬ ১০:৩৯
আপডেট:
২৯ জানুয়ারী ২০২৬ ১২:৪৭
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য যেকোনো হামলার তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি পুনর্ব্যক্ত করার কয়েক ঘণ্টা পর এ কথা বলেন আরাগচি।
বুধবার সন্ধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিখেছেন, ‘আমাদের সাহসী সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে-আমাদের প্রিয় ভূমি, আকাশ ও সাগরের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দিতে তাদের আঙুল ট্রিগারে রয়েছে।’
আরাগচি উল্লেখ করেছেন, গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সামরিক হামলা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের পারমাণবিক স্থাপনার ওপর আক্রমণ থেকে ইরান “মূল্যবান শিক্ষা” নিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘১২ দিনের যুদ্ধে শেখা শিক্ষাগুলো আমাদের আরো শক্তিশালী ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা দিয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারো ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরানের দিকে একটি বিশাল নৌবহর যাচ্ছে। এটি দ্রুত ও কার্যকরভাবে তার মিশন সম্পন্ন করতে প্রস্তুত, প্রয়োজন হলে জোর ও সহিংসতা ব্যবহার করে।’
ট্রাম্প আরো যোগ করেছেন, ‘আশা করি ইরান দ্রুত আলোচনার টেবিলে বসবে এবং একটি ন্যায়সঙ্গত চুক্তি করবে-কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নেই। সময় কমে আসছে, এটি অত্যন্ত জরুরি।’
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহরের মোতায়েন হলো ‘শক্তি প্রদর্শন’ এবং ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসানোর একটি কৌশল।
কাতারের বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আদনান হায়াজনে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বার্তা দিচ্ছে-যদি তোমরা আমাদের চাওয়া অনুসরণ না করো, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে পারে।’
ইরান আরো জানিয়েছে, হুমকির মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা হবে না। আরাগচি বলেছেন, ‘আমাদের অবস্থান স্পষ্ট: হুমকির সঙ্গে আলোচনা যায় না। আলোচনার সময়ই সম্ভব যখন আর কোনো হুমকি বা অতিরিক্ত দাবি থাকবে না।’
তবে তিনি উল্লেখ করেছেন, ইরান সবসময়ই পারস্পরিকভাবে উপকারি ও ন্যায়সঙ্গত পারমাণবিক চুক্তির স্বাগত জানিয়েছে, যা শান্তিপূর্ণ প্রযুক্তি নিশ্চিত করে এবং পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিরোধ করে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা তীব্র হচ্ছে
হরমুজ প্রণালী এলাকায় তেহরান ও মার্কিন বিমান বাহিনী সামরিক মহড়া দিচ্ছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড সতর্ক করেছে, যেকোনো প্রতিবেশী দেশ যদি মার্কিন হামলায় তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে, তা “শত্রু” হিসেবে গণ্য হবে।
এদিকে, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা তাদের আকাশসীমা কোনো হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেবে না। মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধির সঙ্গে আলাদা আলাদা আলোচনা চালাচ্ছে, যাতে ‘অঞ্চলে শান্তি বজায় থাকে এবং নতুন অস্থিতিশীলতার চক্র সৃষ্টি না হয়।’
কাতারের অধ্যাপক হায়াজনে বলেন, ‘আঞ্চলিক পক্ষের আহ্বান সম্ভবত মার্কিন সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলবে না। ট্রাম্প মূলত নিজের মনের কথাই শোনেন।’

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: