বুধবার, ১৪ই জানুয়ারী ২০২৬, ১লা মাঘ ১৪৩২


কাতারের উদেইদ ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র


প্রকাশিত:
১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ১৮:১২

আপডেট:
১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ১৯:৫৬

ছবি-সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মাটিতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে কঠোর হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। এমন হুমকির মধ্যেই মধ্যপ্রচ্যে সবচেয়ে বড় ঘাঁটি— কাতারে অবস্থিত আল উদেইদ ঘাঁটি থেকে বেশ কিছু সেনা সদস্যদের সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) তিনজন মার্কিন কূটনীতিকের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিক্ষোভকারীদের রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে এবারও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে তেহরান। এমন পরিস্থিতিতে আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনাদের সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলো।

একজন কূটনীতিক রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যা মধ্যে তাদের আল উদেইদ সেনা ঘাঁটি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। তবে তিনি এই পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে জানেন না বলেও উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে কাতারের মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সবচেয়ে বড় ওই মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে প্রায় ১০ হাজার সেনা রয়েছে বলে জানা যায়। গত বছরের জুনে মার্কিন হামলার জবাবে কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ওই বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল ইরান।

এর আগে বুধবার একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘তেহরান সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে শুরু করে তুরস্ক পর্যন্ত আঞ্চলিক দেশগুলোকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তাহলে ওই দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ করা হবে।’

তিনি আরও জানান, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থগিত করা হয়েছে, যা ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রতিফলন। ফলে ইরান এসব দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলা ঠেকাতে চেষ্টা করার অনুরোধও জানিয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান আলী লারিজানি কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আমিরাত ও তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন।

উল্লেখ্য, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতনের পর গত ২৮ জানুয়ারি তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা প্রথমে এ আন্দোলন শুরু করেন। যা অল্প কয়েকদিনের মধ্যে সহিংস আন্দোলনে রূপ নেয়। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা নজিরবিহীন এই অস্থিরতায় নিরাপত্তা কর্মীসহ প্রায় ২ হাজার ৬০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৪০৩ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৪৭ জন নিরাপত্তা কর্মীসহ সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়টি যাচাই করেছে। তবে মঙ্গলবার একজন ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রায় ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


রিসোর্সফুল পল্টন সিটি (১১ তলা) ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: ০১৭১১-৯৫০৫৬২, ০১৯১২-১৬৩৮২২
ইমেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক: মো. জেহাদ হোসেন চৌধুরী

রংধনু মিডিয়া লিমিটেড এর একটি প্রতিষ্ঠান।

Developed with by
Top