গ্রিনল্যান্ডে সেনা উপস্থিতি বাড়াচ্ছে ডেনমার্ক
প্রকাশিত:
১৫ জানুয়ারী ২০২৬ ১৩:৪২
আপডেট:
১৫ জানুয়ারী ২০২৬ ১৫:৩৬
ডেনমার্কের স্বায়ত্বশাসিত প্রদেশ গ্রিনল্যান্ড দখলের ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনমনীয় মনোভাব প্রকাশের পর সেখানে সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোপেনহেগেন। ইতোমধ্যে ডেনমার্কের সেনাবাহিনীর অগ্রবর্তী কমান্ডের বেশ কয়েকটি ইউনিটকে গ্রিনল্যান্ডে পাঠানোর প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে।
ডেনমার্কের সংবাদমাধ্যম ডিআর-এর বরাতে আরও জানা গেছে, সেনাবাহিনীর অগ্রবর্তী কমান্ডের এই ইউনিটগুলোর মূল দায়িত্ব হবে গ্রিনল্যান্ডে আরও বেশি সংখ্যক সেনা উপস্থিতির জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনা তৈরি করা। ডেনমার্কের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল এনহেডস্লিস্টেন পার্টি সরকারের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।
এনহেডস্লিস্টেন পার্টির এক মুখপাত্র এ প্রসঙ্গে ডি আর-কে বলেন, “আমরা গত সপ্তাহে সরকারকে এমন একটি অনুরোধ করেছিলাম। এটা খুবই সময়োপযোগী পদক্ষেপ এবং আমরা সংবাদ পেয়েছি যে ইউরোপের অন্যান্য দেশও গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠাচ্ছে। গ্রিনল্যান্ডে যদি কোনো বড় শক্তি হামলা করতে চায়, সেক্ষেত্রে এটা সেই বড় শক্তির উদ্দেশে পাঠানো স্পষ্ট সতর্কতা সঙ্কেত।”
প্রসঙ্গত, বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের আয়তন ২১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬ বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা মাত্র ৫৬ হাজার ৫৮৩ জন। এই জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশই ইনুইট জাতিগোষ্ঠীভুক্ত। গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান উত্তর আমেরিকা অঞ্চলে হলেও এই দ্বীপটি ডেনমার্কের অধীন একটি স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রদেশ। এ দ্বীপের বাসিন্দারাও ডেনমার্ক এবং ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নাগরিক।
আর্কটিক এবং আটলান্টিক সাগরকে পৃথককারী এই দ্বীপটির নাম গ্রিনল্যান্ড হলেও উত্তর মেরুর কাছাকাছি অবস্থান হওয়ার কারণে বছরের বড় সময়জুড়ে তুষারাচ্ছাদিত থাকে এ ভূখণ্ড। দ্বীপটির ভূপৃষ্ঠের গভীরে জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন খনিজ পদার্থ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূতত্ত্ববিদরা।
২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের দখলে আনার ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছেন ট্রাম্প। এ বিষয়ে সর্বশেষ মন্তব্য তিনি করেছেন গত ১০ জানুয়ারি।
সেদিন ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাসভবন হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, “গ্রিনল্যান্ডের লোকজন পছন্দ করুক আর না-ই করুক, আমরা এ ইস্যুতে কিছু একটা করতে চাই। কারণ আমরা যদি (দখল) না করি, তাহলে চীন কিংবা রাশিয়া গ্রিনল্যান্ড দখল করে নেবে এবং প্রতিবেশী হিসেবে রাশিয়া কিংবা চীন— কাউকেই আমরা চাই না।”
“আমরা অবশ্যই গ্রিনল্যান্ড দখল করব। যদিও ১৯৫১ সালের চুক্তি অনুসারে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি আছে, কিন্তু শুধু একটা চুক্তি গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না। আপনাকে মালিকানাও রক্ষা করতে হবে, ইজারাও রক্ষা করতে হবে এবং গ্রিনল্যান্ডকে আমাদের রক্ষা করতেই হবে। যদি আমরা তা না করি, তাহলে চীন কিংবা রাশিয়া করবে।”

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: